এ বছর দেশি ও শংকর জাতের গরুর উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও করোনা পরিস্থিতিতে সাতক্ষীরায় নেই বেচাবিক্রি। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাটে বেচাকেনার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউ। বেচাবিক্রি না হওয়ায় হতাশ খামারিরা। প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।
তবে প্রশাসন বলছে, করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইন প্লাটফর্মে গরু বেচাকেনা করলে লোকসান থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। জেলায় কোরবানি উপলক্ষে এবার ছাগলের থেকে গরুর উৎপাদন ও চাহিদা দুটোই বেশি।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকে জানা যায়, জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৫২ হাজার ৩০০টি। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৩০ হাজার ৫৬০ ও ছাগলের সংখ্যা ২১ হাজার ৭৪০টি। এছাড়া জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৫৯ হাজার ২৩৭টি গরু ও ছাগল। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৩১ হাজার ২৯০, ছাগল ২৫ হাজার ২২১, মহিষ ৯০০ ও ভেড়া দুই হাজার ৭২৬টি।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, জেলায় খামারির সংখ্যা রয়েছে ১২ হাজার ৭৬১ জন। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে অনলাইনের মাধ্যমে পশু বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ১১টি পশু হাটও খোলা রয়েছে। প্রান্তিক কোনো খামারি যদি পশু বিক্রি করতে ব্যর্থ হন তাহলে পরবর্তীতে আমরা ব্যবস্থা নেব। তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই পশু বিক্রির সংখ্যা বাড়ছে। এ পর্যন্ত ১১টি গরু বিক্রি হয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। দিন দিন বিক্রি বাড়ছে। ছাগলের তথ্যটি এখনও আমরা পাইনি।
সাতক্ষীরার সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ থাকায় অনেকটা স্বস্তিতে ছিলেন খামারিরা। কোরবানিতে দেশি ও শংকর জাতের গরু ভালো দামে বিক্রির আশা ছিল তাদের। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে গোটা চিত্র। করোনায় কপাল পুড়েছে খামারিদের। লাভের আশা বাদ দিয়ে খরচ তোলা নিয়েই শংশয়ে তারা।
কোরবানির বড় পশুরহাট বসে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়ায়। রীতিমতো দেশি গরুর দখলে রয়েছে হাটটি। তবে বাইরের ব্যাপারি ও ক্রেতার সংকটে গরুর চাহিদা ও দাম দুটোই কমেছে। করোনা মহামারির কারণে মধ্যবিত্তসহ অধিকাংশ মানুষই অর্থিক সংকটে স্বল্প বাজেটে ছাগল কোরবানি দিতে চাচ্ছেন।
হাটের গরু বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম জানান, এবার হাটে গরুর থেকে ছাগল বিক্রি হচ্ছে বেশি। খামারিরা ভেবেছিলেন এ বছর ভারতীয় গরু না আসায় ভালো দামে গরু বিক্রি করা যাবে। তবে সে আশা পূরণ হয়নি। বর্তমানে হাটে ৩৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় গরু পাওয়া যাচ্ছে। তবে বেশি বিক্রি হচ্ছে ছাগল। ৬-১০ হাজার টাকা দামের ছাগল বেশি বিক্রি হচ্ছে।
পারুলিয়া পশু হাটটি ইজারাদারের পক্ষে তদারিক করেন রাসেল আহম্মেদ। তিনি জানান, করোনার কারণে বন্ধ থাকার পর এ পর্যন্ত পাঁচটি হাট আমরা পেয়েছি। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে হাটে গরু-ছাগল বেচাবিক্রি খুব কম। পাঁচটি হাটে এ পর্যন্ত ২৫০টি গরু ও ২২০টি ছাগল বিক্রি হয়েছে। আগের বছরগুলোতে এমন সময়ে হাজারের উপরে গরু-ছাগল বিক্রি হয়ে যেত।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, ঈদকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনলাইন গরুর হাট করা হয়েছে। যেখানে লক্ষ্য রয়েছে ১০-১৫ হাজার গরু অনলাইনে নিয়ে এসে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে সমন্বয় করে দেয়া। এতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত হবে। এছাড়া জেলার ১১টি পশুর হাটও খুলে দেয়া হয়েছে। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটগুলো চলবে। এগুলো দেখভাল করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে দেয়া হয়েছে।
আকরামুল ইসলাম/এফএ/জেআইএম