বেড়েই চলছে পদ্মা নদীর পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরে পদ্মার পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার ৫৪১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দেড় লক্ষাধিক মানুষ। পানি বৃদ্ধির ফলে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকায় পানি প্রবেশ করছে।
জেলার ১১টি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে সাত হাজার মানুষ তাদের গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এছাড়াও প্লাবিত এলাকার বিভিন্ন উঁচু সড়ক ও বেড়িবাঁধে আরও কয়েক হাজার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যা কবলিতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন।
এদিকে বন্যাকবলিত নারী ও কিশোরীদের পাশে স্বাস্থ্য সামগ্রী নিয়ে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নন্দিতা সুরক্ষা। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত নারী ও কিশোরীদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে স্যানিটারি ন্যাপকিন।
বন্যদুর্গতরা নিজের ঘর ছেড়ে বেড়িবাঁধ, সড়কের উঁচু স্থান ও সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। এই দুর্যোগকালে নারীদের মাসিক সুরক্ষা সামগ্রী জোগাড়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাদের কথা চিন্তা করে পাশে দাঁড়িয়েছে নন্দিতা সুরক্ষা। সংস্থাটির নেতৃবৃন্দ কখনও হেঁটে আবার কখনও নৌকায় করে বানভাসি নারীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন স্যানিটারি ন্যাপকিন। দুর্যোগকালে অস্বস্তিতে পড়া নারীদের পাশে দাঁড়ানোয় নন্দিতা সুরক্ষার নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বন্যাকবলিত নারী ও কিশোরীরা।
গত কয়েকদিন যাবত ফরিদপুর সদর উপজেলার বন্যা কবলিত সাদিপুর, নর্থচ্যানেল, আলিয়াবাদ, ডিক্রিরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নারী ও কিশোরীদের মাঝে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করছেন নন্দিতা সুরক্ষার নেতৃবৃন্দ। শুধু সুরক্ষা সামগ্রীই নয়, সঙ্গে দেয়া হচ্ছে সাবান, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও খাদ্য সামগ্রী।
সাদিপুর বাঁধে আশ্রয় নেয়া এক কিশোরী বলেন, বাড়িঘর ফেলে এখানে এসে উঠেছি। খাবারের তেমন সমস্যা হচ্ছে না। হঠাৎ ঋতুস্রাব শুরু হওয়ায় একটু অস্বস্তিতে পড়েছিলাম। কয়েকজন শহরের মেয়ে এসে আমার হাতে একটি প্যাকেট দিলো। প্যাকেটটি খুলে দেখলাম স্যানিটারি ন্যাপকিন। অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেলাম। আমার মত অনেকেই একই সমস্যায় পড়েছিল, তারাও প্যাকেট পেয়েছে। এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে দাঁড়ানোয় ওইসব মেয়েদের ধন্যবাদ জানাই।
সাদিপুর এলাকায় আশ্রয় নেয়া গৃহবধূ শামিমা বেগম বলেন, খুবই কষ্টে দিন কাটছে। এর মধ্যে আবার ঋতুস্রাব শুরু হওয়ায় খুব বিপদে পড়েছিলাম। সঙ্গে তেমন কোনো কাপড়-চোপড় আনতে না পারায় সমস্যা হচ্ছিল। হঠাৎ নৌকায় করে দুই মেয়ে এসে আমার হাতে একটি প্যাকেট দিয়ে বললো-‘ এর ভেতর ন্যাপকিন আছে, আপনি ব্যবহার করবেন।’ এতো কষ্টের মাঝেও হাতে স্যানিটারি ন্যাপকিন পেয়ে খুব খুশি হয়েছি।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নন্দিতা সুরক্ষা’র প্রতিষ্ঠাতা তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, বন্যাকবলিতদের মাঝে অনেকেই খাদ্য সহায়তা প্রদান করছে। কিন্তু নারী ও কিশোরীদের মাসিককালীন সময়ের কথা চিন্তা করেই আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করি। এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী ও কিশোরীদের মাঝে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করেছি।
তিনি আরও বলেন, ন্যাপকিনের পাশাপাশি আমরা সাবান, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও খাদ্য সামগ্রীও বিতরণ করেছি। দুর্যোগকালে আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বি কে সিকদার সজল/আরএআর/এমকেএইচ