ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বাগাট দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা প্রতিবন্ধী আর্জিনার অবশেষে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্নতরী’ ও ‘আমরা করবো জয়’ তাকে থাকার জন্য ঘর তৈরি দিয়েছে।
বেশ কয়েক বছর আগে আর্জিনার স্বামী মারা গেছেন। তার একটি চোখ অন্ধ। কোনো রকমে একটি জুট মিলে কাজ করে দুই সন্তান নিয়ে দিনাতিপাত করে আসছিলেন। স্বামীর রেখে যাওয়া একটু জমির ওপর ছাপরা ঘর বানিয়ে সেখানে দুই সন্তানকে নিয়ে থাকেন আর্জিনা। বৃষ্টি হলেই ছাপরা ঘর দিয়ে পড়া পানিতে ভিজতে হতো তাদের। এখন আর বৃষ্টিতে ভিজতে হবে না আর্জিনা ও তার সন্তানদের।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নতরীর সভাপতি মোহাম্মদ হাসিব শেখ বলেন, গত ঈদুল ফিতরের সময় স্বপ্নতরীর পক্ষ থেকে ওই এলাকায় অসহায়দের ত্রাণ দিতে যাই। ত্রাণ দেয়ার সময় বিধবা আর্জিনার অসহায়ত্ব দেখে আমাদের খুব কষ্ট হয়। তখনই ভাবি আর্জিনার জন্য কিছু করা যায় কি-না। এরপর ফরিদপুরের আরেকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা করবো জয়’র নেতাদের সঙ্গে আর্জিনার বিষয়ে কথা বলি। পরে আমরা দুই সংগঠনের নেতারা সিদ্ধান্ত নেই আর্জিনার মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেয়ার।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা করবো জয়- এর সভাপতি আহম্মেদ সৌরভ বলেন, স্বপ্নতরীর সভাপতির কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে সহায়তা চেয়ে আমরা ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিই। অনেকেই আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। পরে ওই সহায়তার অর্থ দিয়েই আমরা আর্জিনার ঘর তৈরির ব্যবস্থা করেছি। একদিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। আমরা ঈদের উপহার হিসেবে আর্জিনাকে নতুন ঘর বুঝিয়ে দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, শুধু আর্জিনাই নন, জেলার বিভিন্ন অসহায় মানুষকে সহায়তা করে করছে ‘আমরা করবো জয়’ সংগঠনটি। এর আগে আরও ৯ জন অসহায় মানুষকে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেয়া হয়েছে। তাদের এ উদ্যোগে বিভিন্ন সময় যারা সহায়তা করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানান সৌরভ।
প্রতিবন্ধী আর্জিনা বলেন, কয়েক বছর আগে আমার স্বামী মারা গেছেন। আমার একটি চোখ অন্ধ। কোনো রকম একটি জুট মিলে কাজ জোগাড় করে দুই সন্তান নিয়ে একটি ছাপর ঘরে দিনাতিপাত করছিলাম। স্বপ্নতরী ও আমরা করবো জয় আমাদের জন্য একটি ঘর তৈরি করে দিয়েছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, আমাকে আর বৃষ্টির পানিতে সন্তানদের নিয়ে ভিজতে হবে না। আমি খুব খুশি, মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছি। বাকিটা জীবন ভালোভাবে কাটাতে পারবো।
বি কে সিকদার সজল/আরএআর/এমএস