অর্থনীতি

করোনা ভয় কাটিয়ে ব্রোকারেজ হাউসমুখী বিনিয়োগকারীরা

দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজার। মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের গতি। বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়ায় মহামারি করোনাভাইরাসের ভয়কে দূরে ঠেলে ব্রোকারেজ যাতায়াত বাড়িয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

Advertisement

সোমবার মতিঝিলের বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ঘুরে দেখা গেছে, করোনার কারণে প্রতিটি হাউসেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। এরপরও বিনিয়োগকারীরা ছুটে আসছেন। অনেকে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের মনিটরের সামনে বসে লেনদেন চিত্র দেখছেন এবং শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করছেন।

প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউসেই বিনিয়োগকারীদের আনাগোনা থাকলেও সবথেকে বেশি বিনিয়োগকারীর উপস্থিতি দেখা যায় শাকিল রিজভী স্টক লিমিটেডে।

হাউসটিতে বসে কম্পিউটারে লেনদেন চিত্র দেখা তুহিন নামের এক বিনিয়োগকারী বলেন, দীর্ঘ মন্দার পর সম্প্রতি বাজার একটু ভালো হয়েছে। তবে এখনও বিনিয়োগকারীরা লোকসানে রয়েছেন।

Advertisement

তিনি বলেন, বাজার ভালো হওয়ায় এখন হাউসে আসা শুরু করেছি। তবে প্রতিদিন আসি না মাঝে মধ্যে আসি। আজ নিয়ে ঈদের পর তিনদিন আসলাম।

হাউসটি থেকে মিলন নামের আর এক বিনিয়োগকারী বলেন, আমি মাঝেমধ্যেই হাউসে আসি। বাজার ভালো হওয়ায় কয়েকদিন ধরে হাউসে বিনিয়োগকারীদের আনাগোনা বেড়েছে। তাছাড়া ওয়ালটনের আইপিও আবেদন শুরু হয়েছে। আইপিও আবেদন করতেও অনেক বিনিয়োগকারী আসছেন।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে টাকার কোনো অভাব নেই। বাজারের মূল সমস্যা আস্থা সংকট। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন কমিশন দায়িত্ব নিয়ে বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। যার ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও কিছুটা বেড়েছে। বাজারে যার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

ব্রোকারেজ হাউসটির এক কর্মকর্তা বলেন, করোনার কারণে আমরা বিনিয়োগকারীদের হাউসে কম আসার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। এরপরও বিনিয়োগকারীরা হাউসে আসছেন। মনিটরের সামনে বসে বাজারের হালচাল দেখছেন। তাছাড়া ওয়ালটনের আইপিও আবেদন শুরু হওয়ায় দু’দিন ধরে হাউসে বিনিয়োগকারীদের আনাগোনা বেড়েছে।

Advertisement

বিনিয়োগকারীদের বেশ আনাগোনা দেখা যায় আর এক ব্রোকারেজ হাউস আনোয়ার সিকিউরিটিজে। তবে হাউসটির ভেতরে বিনিয়োগকারীদের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণে প্রবেশ পথে টেবিল পেতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপরও বিনিয়োগকারীরা হাত দিয়ে সেই টেবিল সরিয়ে অনায়াসে হাউসটির ভেতরে যাতায়াত করতে দেখা যায়। অবশ্য দড়ি টাঙিয়ে কম্পিউটার অপারেটরের কাছে বিনিয়োগকারীদের যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেছে।

হাউসটি থেকে অপু নামের এক বিনিয়োগকারী বলেন, বাজার আস্তে আস্তে ভালো হচ্ছে। এ কারণে করোনা ভয় কাটিয়ে বিনিয়োগকারীরাও হাউসে আসছেন। বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শিগগিরই বিনিয়োগকারীদের আনাগোনা আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, করোনা নিয়ে সবার মধ্যেই ভয় আছে। কিন্তু করোনা ভয়ের থেকে জীবিকা বড়। জীবিকা বন্ধ হয়ে গেলে সব শেষ হয়ে যাবে। ফলে করোনার প্রকোপ যতই থাকুক জীবিকার জন্য মানুষ বের হবেই।

পার্ক ওয়ে সিকিউরিটিজ থেকে বিনিয়োগকারী হাসান বলেন, হাউসে লেনদেন করলে বাজারে চিত্র ভালো বোঝা যায়। কোন কোম্পানির দাম বাড়বে বা কমবে সে বিষয়ে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। তাই করোনা মহামারির মধ্যেও মাঝে মধ্যে হাউসে এসে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করি।

তিনি বলেন, করোনার কারণে ঈদের আগে মতিঝিলে বিনিয়োগকারীদের আনাগোনা তেমন ছিল না। তবে বাজার ভালো হওয়ায় কিছুদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের আনাগোনা বেড়েছে। অবশ্য ২০১০ সালে হাউসগুলো বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতিতে যেমন জমজমাট ছিল এখন তার কিছুই নেই। ২০১০ সালের সেই রমরমা চিত্র আর দেখতে পারব কিনা জানি না।

ব্রোকারেজ হাউসে বিনিয়োগকারীদের আনাগোনার বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার সিকিউরিটিজের কোম্পানি সচিব মোতালেব জাগো নিউজকে বলেন, বাজার ভালো হওয়ায় এখন হাউসে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি কিছুটা বেড়েছে। তবে স্বাভাবিক সময়ে বিনিয়োগকারীদের যেমন উপস্থিতি থাকে, এখনও সেই অবস্থায় ফেরেনি।

সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী জাগো নিউজকে বলেন, বাজার ভালো হাউসে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিত বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। কয়েকদিন ধরে বাজার ভালো রয়েছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাও বাড়ছে। যে কারণে হাউসে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিত কিছুটা বেড়েছে।

এমএএস/এমআরএম