প্রাণবন্ত মেধাবী যুবক স্বাগত সরকার পরাগ (২৭) ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে ইনফরমেশন টেকনোলজিতে অনার্স পড়ছিলেন। স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষ করে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু জটিল রোগ ‘প্যানক্রিয়েটাইটিস’ ও ‘জিবিএস’ তার মুখের হাসিই কেড়ে নিতে বসেছে।
ঢাকার বিআরবি হাসপাতালের আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পরাগ। যশোর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরাগের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সহযোগিতা কামনা করেছে তার পরিবার। যশোর শহরের বেজপাড়া বুনোপাড়া এলাকার রণজিৎ কুমার সরকারের ছেলে স্বাগত সরকার পরাগ যশোর জিলা স্কুল থেকে ২০০৯ সালে এসএসসি পাস করেন। যশোর এমএম কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর ঢাকায় ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে ইনফরমেশন টেকনোলজিতে অনার্সে ভর্তি হন।
সদা হাস্যোজ্জ্বল প্রাণবন্ত পরাগের স্বপ্ন ছিল, লেখাপড়া শেষ করে পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন, মানুষের জন্য কাজ করবেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তার সেই স্বপ্ন ঢেকে যায় কালো মেঘে।
পরাগের বড় ভাই শশাঙ্ক শেখর সরকার জানান, অনার্স পড়া অবস্থায় পরাগের ‘প্যানক্রিয়েটাইটিস’ রোগ ধরা পড়ে। ২০১৬ সালে হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হলে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ২৫ দিন আইসিইউতে ছিল। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের ভেলোরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্যানক্রিয়াস থেকে সিস্ট অপসারণ করা হলে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। এরপর থেকে সেখানকার চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরাগের চিকিৎসা চলছিল।
গত জুন মাসে ভেলোরে নিয়মিত চেকআপের জন্য যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে যাওয়া সম্ভব হয়নি। গত ২০ জুলাই আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন পরাগ। দ্রুত যশোর থেকে তাকে ঢাকার বিআরবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ১ আগস্ট দুপুরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। এ সময় ‘প্যানক্রিয়েটাইটিস’র সাথে তার ‘জিবিএস’ রোগও ধরা পড়ে। এ রোগের কারণে তার শরীরের নিচের অংশ ধীরে ধীরে অবশ হয়ে যাচ্ছে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বড় ভাই শশাঙ্ক শেখর সরকার আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে পরাগের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে ৫০ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। এখন ৫টি ইঞ্জেকশনের একটি ডোজ দেয়া দরকার। যার মূল্য ১১ লাখ টাকা। এছাড়া আইসিইউতে রাখার জন্য প্রতিদিন সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। পরাগের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে অনেক টাকা দরকার। কোথায় পাব এত টাকা? যশোর জিলা স্কুলের ছাত্র শশাঙ্ক শেখর সরকার তার ভাই পরাগের জন্য জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ হৃদয়বানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।
পরাগের মা স্মৃতিকণা সরকার সন্তানের জন্য আঁচল পেতে আকুতি জানিয়েছেন। সবার সহযোগিতা ফিরিয়ে দিতে পারে এ মেধাবী সন্তানের হাসি। পরাগের বিষয়ে আরও জানতে যোগাযোগ করা যাবে তার ভাই শশাঙ্ক শেখর সরকার সোহাগের ০১৭১৬-৫৭১১৭৬ নম্বরে। সহযোগিতা পাঠানো যাবে, শশাঙ্ক শেখর সরকার, ডাচ-বাংলা ব্যাংক লি. অ্যাকাউন্ট নং-১৬৩.১০১.১৫৩৪৫০।
মিলন রহমান/এমএএস/এমকেএইচ