কুমিল্লা ইপিজেডের এক পোশাক কারখানার নারী শ্রমিককে বেশি বেতনে অপর কারখানায় চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় অপহরণকারীদের কাছ থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।
কুমিল্লা র্যাব-১১ সিপিসি-২ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে অপহরণের চার ঘণ্টার মধ্যে বুধবার গভীর রাতে নগরীর টমছমব্রিজ এলাকা থেকে ওই নারী শ্রমিককে উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কুমিল্লা র্যাব-১১ সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুস সাকিব।
গ্রেফতারকৃত অপহরণকারীরা হলেন- কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ছনগাঁও গ্রামের আমান উল্লাহর ছেলে আবদুল মমিন (২০), নগরীর শাকতলার মৃত মনির হোসেনের ছেলে মো. সিয়াম (১৯), সদর দক্ষিণ উপজেলার উড়াশার গ্রামের আবু মিয়ার ছেলে সাইমন হাসান (১৯) ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জামিয়া গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে আরিফ হোসেন (১৯)।
র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুস সাকিব বলেন, কুমিল্লা ইপিজেডের ‘কাদেনা গার্মেন্টস’র এক নারী শ্রমিক বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ডিউটি শেষে বাসায় যাচ্ছিলেন। ‘হাংছিং কটন মিল’র শ্রমিক আবদুল মমিন ওই নারী শ্রমিককে বেশি বেতনে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করেন। পরে তাকে ‘হাংছিং কটন মিল’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বলে ইপিজেডের বাইরে একটি দোকানে নিয়ে যান। সেখানে থাকা আরও কয়েকজন ওই নারী শ্রমিককে আটকে রাখেন।
তালুকদার নাজমুস সাকিব বলেন, অপহরণকারীরা নারী শ্রমিকের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তার বাবাকে ফোন করে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। পরে র্যাবের একটি দল ভিকটিমের মায়ের মাধ্যমে টাকা দেয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে অপহরণকারীদের টমছমব্রিজ এলাকায় আসতে বলে। রাত ১২টার দিকে তারা ওই নারীকে নিয়ে টমছমব্রিজ এলাকায় আসার পর অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করে র্যাব। এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।
মো. কামাল উদ্দিন/এএম/জেআইএম