লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ২৬০টি পরিবারের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সেলিম মাঝি নামে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। বিদ্যুৎপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অন্তত পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তিনি নিজের পকেট ভারী করেছেন। বিদ্যুৎপ্রত্যাশীরা দুই বছরেও সংযোগ না পাওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে তাদের হুমকি দেয়া হয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত সেলিম মাঝি সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি।
স্থানীয়রা জানান, দুই বছর আগে আন্ধারমানিক গ্রামের ২৬০টি পরিবারের কাছ থেকে সেলিম বিদ্যুৎ সংযোগ দেবে বলে অন্তত পাঁচ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। প্রত্যেক পরিবার থেকে এক-তিন হাজার টাকা করে নেয়া হয়। কিন্তু প্রতিটি মিটারের জন্য সরকার নির্ধারিত খরচ ৪৫০ টাকা। বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার আশায় গ্রাহকরা নিজ উদ্যোগে ঘরে ওয়্যারিং করে রাখেন। ইতোমধ্যে ওই গ্রামে খুঁটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। সেলিম গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিলেও অফিসে আবেদন না করায় পরিবারগুলো বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছে না।
মোজাম্মেল হোসেন রনি, মো. সবুজ ও সুলতান মাহমুদ ফয়েলসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, যুবলীগ নেতা সেলিম ক্ষমতা দেখিয়ে বিদ্যুৎ পাইয়ে দেবে বলে গ্রামবাসীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। কিন্তু কেউ বিদ্যুৎ সংযোগ পাননি। প্রতিবাদ করায় সেলিম তাদের মারধর ও মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দিচ্ছেন।
অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা সেলিম মাঝি বলেন, যারা তিন হাজার টাকা করে দিয়েছে তাদের আমি সংযোগ দিয়েছি। পুরো টাকা না দেয়ায় অন্যদের সংযোগের ব্যবস্থা করা যায়নি। গ্রাহকদের টাকা আমি খাইনি, অফিসেই জমা দিয়েছি।
তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর হুসাইন ভুলু বলেন, প্রতারকের রাজনৈতিক পদবি বড় নয়, অপরাধটাই বিবেচিত। আমি সেলিমের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবু তাহের বলেন, গ্রাহকরা সরাসরি অফিসে আবেদন করলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। সেলিমের প্রতারণার বিষয়টি আমরা অবগত না। এ বিষয়ে অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কাজল কায়েস/আরএআর/এমকেএইচ