দেশজুড়ে

রেলক্রসিং তুলে দিয়ে আন্ডার ও ওভার পাসিং করা হবে : রেলমন্ত্রী

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, রেলক্রসিংগুলোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়। যার জন্য ‘আন্ডার পাসিং বা ওভার পাসিং’ সিস্টেম গড়ে তুলে রেলক্রসিং তুলে দেয়ার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সেই মোতাবেক কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। যাতে কোনো জায়গায় রেলক্রসিং না থাকে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার রাতে যশোর সার্কিট হাউসে জেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে মতবিনিময়ে এসব কথা বলেন তিনি।

রেলমন্ত্রী আরও বলেন, রেলওয়েকে ধ্বংস করে একটা সময় সংকুচিত করে ফেলা হয়েছিল। দীর্ঘদিন খাতটির কোনো সম্প্রসারণ হয়নি। ১৯৭০-৭১ সালে রেলওয়ের জনবল ছিল প্রায় ৭০ হাজার। এখন সেটি কমে মাত্র ২৫ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রেল মন্ত্রণালয় গঠন ও নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণের মধ্য দিয়ে রেলওয়ের আগের যৌবন ফিরিয়ে এনেছেন।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আটটি ‘ইন্টারসেকশন পয়েন্ট’ ছিল। কিন্তু পাক-ভারত যুদ্ধের সময় এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেগুলো আবার নতুন করে চালু করা হয়েছে। এসব ছাড়াও আরও অনেক এলাকায় নতুন করে রেল যোগাযোগ স্থাপন চলছে। খুলনা অঞ্চলের রেল সংযোগ মোংলা পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার রাতে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে সার্কিট হাউসে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে সংক্ষিপ্ত পরিসরে মতবিনিময় করেন। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার যশোর অঞ্চলের রেলের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

সেসব দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যশোর স্টেশনের জন্য উপযোগী একটি ওভারব্রিজ নির্মাণ। বিভিন্ন রুটের ট্রেনে যশোর স্টপেজে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি, প্লাটফর্ম আধুনিকীকরণ ও পণ্য সংরক্ষণের জন্য একটি ওয়ারহাউজ (গুদাম) নির্মাণ।

এছাড়া এদিন রাতে মন্ত্রীর সঙ্গে আরেক দফায় মতবিনিময় করেছে নাগরিক অধিকার আন্দোলন যশোর। সংগঠনটি যশোরের রেলওয়ের উন্নয়নে মন্ত্রীর কাছে ছয় দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দেয়। স্মারকলিপিতে খুলনা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডাবল লাইন, নাভারণ থেকে সাতক্ষীরা হয়ে শ্যামনগর পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ করার দাবি জানানো হয়েছে।

এসব দাবির পাশাপাশি নাগরিক অধিকার আন্দোলন তাদের স্মারকলিপিতে কোটচাঁদপুর থেকে মুজিবনগর পর্যন্ত নতুন রেলপথ, যশোর স্টেশনে একটি যুতসই রেলগুদাম, স্টেশনের প্লাটফর্ম মানসম্মতভাবে উঁচু করা ও স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছে।

Advertisement

রেলমন্ত্রীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি, সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, প্রচার সম্পাদক মুন্সি মহিউদ্দিন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মাহামুদ হাসান বিপু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জুয়েল, জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জাহিদ হোসেন মিলন, অর্থ সম্পাদক ফিরোজ আলম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান কবীর শিপলু, সাবেক সহ-সভাপতি নিয়ামত উল্লাহ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী, পৌর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান রনি।

এদিকে নাগরিক অধিকার আন্দোলন যশোরের মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ের মহাপরিচালক শামসুজ্জামান, যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার, মুক্তিযুদ্ধকালীন বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান আলী হোসেন মনি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যশোরের সাবেক জেলা কমান্ডার মুযাহারুল ইসলাম মন্টু, নাগরিক অধিকার আন্দোলন যশোরের আহ্বায়ক মাস্টার নূর জালাল, সমন্বয়কারী মাসুদ মিঠু, সদস্য আহসান উল্লাহ ময়না, ড. এসএম আব্দুল্লাহ, মতিউর রহমান প্রমুখ।

মিলন রহমান/বিএ