আন্তর্জাতিক

একসঙ্গে দুটি বিরল রোগে আক্রান্ত নবজাতক

দুটি বিরল রোগ নিয়ে ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে এক শিশুর জন্ম হয়েছে। শিশুটি মেটাবলিজম সংক্রান্ত ও স্নায়ুগত রোগে আক্রান্ত। জন্মের পর থেকে ৪৪ দিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এ নবজাতক। এ ঘটনায় হতবাক চিকিৎসকরা।

Advertisement

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় মেটাবলিজম সংক্রান্ত রোগকে ‘পম্প’ বলা হয়। এ রোগের চিকিৎসার জন্য বছরে আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা খরচ পড়ে। আর স্নায়ুগত রোগকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘স্পাইনাল মাসকিউলার অ্যাট্রফি’, সংক্ষেপে এসএমএ বলা হয়। এ রোগের চিকিৎসা ব্যয় বছরে প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিশ্বে এমন বিরল রোগে আর কোনো নবজাতক অতীতে আক্রান্ত হয়েছে কিনা, তা জানান নেই চিকিৎসকদের।

জয়পুরের জে কে লন হাসপাতালের চিকিৎকরা জানান, কয়েকদিন আগে আগ্রার একটি হাসপাতাল থেকে ওই শিশুকে জে কে লন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। জোরে জোরে নিঃশ্বাস নেয়া এবং শরীরের নিম্নভাগের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কম নড়াচড়ার সমস্যা রয়েছে শিশুটির। এ কারণে তাকে জয়পুরের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অবস্থা সঙ্কটজনক দেখে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেন চিকিৎসক প্রিয়াংশু মাথুর। তার নেতৃত্বে ৩ সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এরপরই জানা যায়, শিশুটি একসঙ্গে দুটি বিরল রোগে আক্রান্ত।

ডা. প্রিয়াংশু মাথুর জানান, স্পাইনাল মাসকিউলার অ্যাট্রফির চিকিৎসা শুরুর আগে আমরা মেটাবলিজম সংক্রান্ত সমস্যার চিকিৎসা শুরু করেছি। শিশুটি যে ধরনের সমস্যায় ভুগছে, সেক্ষেত্রে এক মিনিটও চিকিৎসার বাইরে ফেলে রাখা যাবে না।

Advertisement

এই দুই বিরল রোগের চিকিৎসায় যে কোটি কোটি টাকার প্রয়োজন, সে বিষয়েও পরিবার ও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন জে কে লন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। শিশুটির চিকিৎসার জন্য ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য করা হচ্ছে।

কলকাতার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অরুণালোক ভট্টাচার্য ও প্রভাস প্রসূন গিরি বলেন, এই রোগ বিরলের মধ্য বিরলতম। পম্পের কারণে হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে পড়বে এবং অন্যদিকে এসএমএ’র কারণে ফুসফুসের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটবে না। যার ফলে পূর্ণবয়স্ক হওয়ার আগেই শিশুটি মারা যাবে।

তারা আরও বলেন, শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে আজীবন চিকিৎসার প্রয়োজন, যা ব্যয়বহুল তো বটেই, এমনকি ভারতে এই চিকিৎসার কোনো ওষুধও নেই। বিদেশ থেকে ওষুধ আমদানি করে শিশুটির চিকিৎসা চালাতে হবে। শুধু তাই নয়, সরকারের কাছ থেকে সেই ওষুধ ব্যবহারের ছাড়পত্রও আদায় করতে হবে।

এমএসএইচ/পিআর

Advertisement