জাতীয়

নীলা রায় হত্যার বিচার ও সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবি

ঢাকার সাভারে স্কুলছাত্রী নীলা রায় হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিসহ সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ। পাশাপাশি তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটি দাবি করেন।

Advertisement

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এ দাবি জানায় বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সাভার পৌরসভার দক্ষিণপাড়ায় কিশোরী নীলা রায়কে (১৪) হত্যা করা হয়। হত্যার অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। মিজান প্রায় দেড় বছর ধরে নীলাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার দিন শ্বাসকষ্টে ভুগছিল নীলা। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার ভাই অলক রিকশায় করে নীলাকে হাসপাতালের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। বাসা থেকে কিছু দূর নিয়ে যাওয়ার পর মিজান রিকশার গতিরোধ করেন। অস্ত্রের মুখে ভাইয়ের কাছ থেকে নীলাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান মিজান। রাত ৮টার দিকে পৌরসভার দক্ষিণপাড়া এলাকায় মিজানদের পরিত্যক্ত একটি বাড়ি থেকে নীলার গলায়, পেটে, মুখে ও ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করা লাশ পাওয়া যায়।

Advertisement

এ বিষয়ে মানববন্ধনে হিন্দু পরিষদের সভাপতি দীপংকর শিকদার দীপু বলেন, ‘ছাত্রী নীলা রায়কে হত্যার প্রতিবাদ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। একই সঙ্গে, দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে চলমান সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ ও প্রকৃত দোষীদের দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে অনুরোধ করছি। আর হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটিসহ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার মোতাবেক সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।’

সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিশ্র বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো সংখ্যালঘুরা যেন নিরাপদভাবে বসবাস করতে পারে সে দিকে সরকারকে দৃঢ় দৃষ্টি রাখার অনুরোধ করছি। সাভারে স্কুলছাত্রী নীলা রায়কে হত্যার প্রতিবাদ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। মিথ্যা ধর্মীয় উস্কানিমূলক মামলা দিয়ে দিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদারকে হয়রানি না করারও দাবি জানাই।’

মুখপাত্র সুমন কুমার রায় বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর, মঠ, মন্দির ভাঙচুর, শ্মশান বেদখল, দেশত্যাগে ভয়ভীতি প্রদর্শনের আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় মিথ্যা মামলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাঁসিয়ে যে চলমান নির্যাতন চলছে, তা অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’

পিডি/এসআর/জেআইএম

Advertisement