জাতীয়

‘প্রধানমন্ত্রীর মুখ মলিন হয়, এমন কাজ থেকে আমরা যেন বিরত থাকি’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ যাতে উজ্জ্বল হয়, সবাইকে এমন কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ মলিন হয় বা তিনি লজ্জা পান, এমন কাজ থেকে আমরা যেন বিরত থাকি।

Advertisement

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর উত্তরার সোনারগাঁ জনপথ রোডের জমজম টাওয়ার এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ৭৪টি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে ‘পরম্পরা কানন’ উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৩ বছর জেলে ছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাবাকে কালেভদ্রে দেখতে পারতেন। বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে উঠে এসেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ কামাল সাহেব একটি আবেগঘন কথা বলেছিলেন। শেখ কামাল বলছিলেন যে, ‘আপু তোমার বাবাকে বাবা ডাকি?’ এই কথাটা একটা বাবার জন্য কী রকম বেদনাদায়ক, কী রকম কষ্টের। আমার সন্তান আমাকে চেনে না। কারণ বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষের জন্য জেলে থাকছিলেন। এমন একজন নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অনুসারী হয়ে, তার দলের অনুসারী হয়ে আমরা কীভাবে দুষ্কর্ম করি!

শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ যেন উজ্জ্বল হয়, সবাই মিলে আমরা এমন কাজ করি। তার মুখ মলিন হয় বা তিনি লজ্জা পান, এমন কাজ থেকে আমরা বিরত থাকি। তবেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন সার্থক হবে।

Advertisement

ডিএমপি কমিশনার বলেন, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই পারেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নগুলো পূরণ করতে। তিনি জাতির পিতার আদর্শ-স্বপ্ন বুকে ধারণ করেন এবং সে অনুযায়ী তিনি ভালো কাজ করেন। আমরা সবাই মিলে তার হাতকে আরও শক্তিশালী করে তার ভালো কাজে সহায়তা করি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ৫৫ বছরের জীবনের অর্ধেক সময় জেলে কাটিয়েছেন। তিনি বিস্ময়করভাবে এ জাতিসত্তার পরিচয়ের উন্মোচন ঘটিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে আমাদের প্রতিষ্ঠা করে এই বঙ্গে মানচিত্র দিয়েছেন, ভূখণ্ড দিয়েছেন, পতাকা দিয়েছেন।

পুলিশপ্রধান বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-বাঙালির জন্য আশীর্বাদ হিসেবে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছেন। যে কারণে আজ আমরা বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, সামাজিক ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি করে সবাইকে চমকে দিয়েছি। বাংলাদেশ এখন একটা ব্র্যান্ড, সে ব্র্যান্ডের ম্যাজিক্যাল ডেভেলপমেন্টের ম্যাজিশিয়ান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এলিট ফোর্স র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সারাবিশ্ব যেখানে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে আমরা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সফল হয়েছি।

Advertisement

তিনি বলেন, অপরাধ বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী অপরাধীদের কোনো ছাড় দেননি। অপরাধ সবসময়ই শূন্যে নামিয়ে আনতে চেষ্টা করেছি এবং আমরা তাতে সক্ষম হয়েছি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই যাতে সঠিক বিচার হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান অনেক বেশি। ২০৩০ সালে আমরা এ দেশের আরও সাফল্য অর্জনে সক্ষম হবো।

ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, সংরক্ষিত-৩ আসনের সংসদ সদস্য শবনম শারমিন শিলা প্রমুখ।

জেইউ/এইচএ/এমএস