দেশজুড়ে

প্রেমিকার স্বজনদের হাতে প্রেমিক খুন, দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রেমিকাকে বিয়ে করতে চুয়াডাঙ্গায় এসে খুন হওয়া জুবাইর মাহামুদ (২০) হত্যা মামলায় দুইজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মোহাঃ বজলুর রহমান এ রায় দেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের মৃত হারান মন্ডলের ছেলে মুন্তাজ আলী ও একই উপজেলার পিতম্বরপুর গ্রামের গোলাম নবী শেখের ছেলে মোহাম্মদ হাসান।

জুবাইর মাহামুদ ঢাকার সাভার বিপিএটিসি কলেজের বাণিজ্য বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

মামলার অন্যতম আসামি জুবাইরয়ের প্রেমিকা নুসরাত জাহান পিয়াসহ অন্য আসামিদেরকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি পিয়ার বাবা নজির আহমেদ, রশিদ আহমেদ ও নজু মারা যাওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ১৩ এপ্রিল জুবাইর মাহামুদ বিয়ে করার জন্য তার প্রেমিকা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার টেইপুর গ্রামের নুসরাত জাহান পিয়ার বাড়িতে আসেন। পরে তাকে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না পেয়ে জুবাইরকে হত্যা করে লাশ গুম করে পিয়ার স্বজনরা। এর ১৬ দিন পর পিয়ার বাড়ির কাছে কবরস্থান থেকে মাটি খুঁড়ে পুলিশ জুবাইরের মরদেহ উদ্ধার করে।

পরে জুবাইরের বাবা নুরুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে পিয়াসহ ৯ জনকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেকেন্দার আলী তদন্ত শেষে ৮ জন আসামির নামে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলার প্রধান আসামি রশিদ আহমেদ পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। আরেক আসামি নজু মারা যায় এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে। স্বাভাবিক মৃত্যু হয় পিয়ার বাবা আসামি নজির হোসেনের। ফলে মামলা থেকে বাদ পড়ে ওই দুইজন আসামি।

মামলার বাকি ৬ আসামির মধ্যে মুন্তাজ আলী ও মোহাম্মদ হাসানের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই দুইজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বাকি চার আসামি আমীর হোসেন, ইমান আলী, নুসরাত জাহান পিয়া ও কবির হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। এ মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

মামলার বাদী জুবাইরয়ের বাবা নুরুল হক চৌধুরী এ রায় প্রত্যাখ্যান করে জানান, তিনি ন্যায় বিচার পাননি। উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) গিয়াস উদ্দিন জানান, চাঞ্চল্যকর এ মামলায় ২ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৪ আসামি বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

সালাউদ্দীন কাজল/এমএএস/পিআর