যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া গ্রামে বাবা-মায়ের দ্বন্দ্বে পাঁচ বছরের শিশু আল-আমীনকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) ভোররাতে শিশুটি অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। তার গায়ে আগুন দেয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আল-আমীনের মা তামান্না দাবি করেন, শিশুটির বাবা তাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে।
তবে শিশুটির বাবা হাজী দাউদ সরদারের দাবি, তিনি সন্তানের শরীরে আগুন দেননি শিশুটির নানি সাকিরন বিবি তার সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য এ নাটক সাজিয়েছেন।
শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে।
স্বজনরা জানিয়েছেন, আল-আমীন বর্তমানে যশোর সদরের এড়েন্দা গ্রামে তার মা তামান্না ও নানি সাকিরন বিবির সঙ্গে বসবাস করে। গত রোববার (৪ অক্টোবর) নানি সাকিরন বিবি আল-আমীনকে সঙ্গে নিয়ে বাঁকড়া গ্রামে তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। এ খবর জানতে পারেন একই গ্রামের বাসিন্দা শিশুটির বাবা দাউদ সরদার।
বুধবার রাতে আল-আমীনকে নিয়ে তার নানি সাকিরন বিবি একটি রুমে ঘুমিয়ে ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোররাতের দিকে ঘরের জানালা দিয়ে পাটখড়ির মাধ্যমে মশারিতে আগুন দেয়া হয়। এ সময় আল-আমীন চিৎকার দিলে পরিবারের লোকজন দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
অগ্নিদগ্ধ আল আমীনের মা তামান্না জানান, ছয় বছর আগে তিনি দাউদ সরদারের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। এ সময় তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করায় একপর্যায়ে তার গর্ভে সন্তান আসে। আল-আমীনের জন্ম হয়। প্রথমে দাউদ অস্বীকার করলেও ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে আদালতে প্রমাণ হয় আল-আমীন দাউদের সন্তান। একপর্যায়ে দাউদ তামান্নাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও পরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এখন সন্তারের পরিচয় অস্বীকার করতে দাউদ সরদার সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে।
তবে দাউদ সরদার দাবি করেন, এ ঘটনা মীমাংসার জন্য তামান্নার মা সাকিরনকে ১২ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতিমাসে সন্তানের ভরণপোষণের জন্য তিনি খরচ দেন। সাকিরন তার কাছে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করছে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় আল-আমীনকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, একই ঘরে সাকিরন ও আল-আমীন ঘুমিয়ে ছিল। কিন্তু আল-আমীন অগ্নিদগ্ধ হলেও সাকিরনের কিছু হয়নি। এটি বিশ্বাস করার মতো নয়। মূলত তার কাছ থেকে নতুন করে টাকা আদায় করতে নতুন নাটক সাজিয়েছে সাকিরন। ঘটনাটি সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন দাউদ।
এ ব্যাপারে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাফিকুর রহমান স্বপন জানান, শিশু আল-আমীনের শরীরের ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করা হয়েছে। সেখানে নিয়ে চিকিৎসা করার অর্থ না থাকায় হাসপাতাল ও রোগী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হচ্ছে।
মিলন রহমান/আরএআর/জেআইএম