রাজনীতি

বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হতে না পারলে ধর্ষণ দূর হবে না

জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হতে না পারলে দেশ থেকে ধর্ষণ দূর করা সম্ভব নয়। উন্নয়নের সঙ্গে সুশাসন না থাকলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অসাড় হয়ে যায়। তেমনি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হতে না পারলে উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে পড়ে।

Advertisement

শুক্রবার রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের কার্যালয় মিলনায়তনে উপজেলা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ নারীর সম্ভ্রম রক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমেছে এর চেয়ে লজ্জার কিছু নেই। দেশের মানুষ ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন থেকে মুক্তি চায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নয় শুধু জাতীয় পার্টিই পারে দেশ থেকে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ সব অনাচার দূর করতে। তাই দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে দরকার হয়ে পড়েছে জাতীয় পার্টির সরকার।

বাবলু বলেন, মানুষ চায় উন্নয়নের সঙ্গে সুশাসন এবং আইনের শাসন। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উন্নয়নের সঙ্গে সুশাসন নিশ্চিত করতে পেরেছিলেন। বিএনপি উন্নয়নের নামে খাল কেটেছে, এখন আর তাদের সেই উন্নয়ন চোখে পড়ে না। আবার ৯১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজী, দখলবাজী ও দলবাজী শুরু করেছিল। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর স্বপ্নের উপজেলা ব্যবস্থা ভেঙে চুরমার করেছিল। মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ধুলিসাৎ করে বিএনপি এখন অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। উপজেলা ব্যবস্থা বাতিল করে বিএনপি যে অপরাধ করেছে সেজন্য তাদের ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

Advertisement

তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ সময় একটানা ক্ষমতায় থেকে দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন করেছে। কিন্তু মানুষের শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। নারী ও শিশুর সম্মান রক্ষায় ব্যর্থ। তাই দেশের নিরাপত্তা, শান্তি, স্বস্তি, উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য জাতীয় পার্টির দিকে দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে। তাই, আগামী জাতীয় নির্বাচনে গোলাম মোহাম্মদ কাদের-এর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি ক্ষমতার নিয়ামক শক্তি হিসেবে আর্বিভূত হবে। জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষের দোড়গোড়ায় উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতেই পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উপজেলা গঠন করেছিলেন। ৪৬০টি উপজেলা প্রতিষ্ঠা করে ১৮ জন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা, কৃষি, পশু সম্পদ ও বনায়নে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু উপজেলা পরিষদ গঠন করে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। পল্লীবন্ধু উপজেলা পরিষদকে শক্তিশালী করে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন করেছিলেন। আমরা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বপ্নের উপজেলা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানের আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা- জহিরুল আলম রুবেল, ভাইস চেয়ারম্যান হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, যুগ্ম মহাসচিব- বেলাল হোসেন, একেএম আশরাফুজ্জামান খান, জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. ইব্রাহিম খান জুয়েল।

এইউএ/জেএইচ/এমএস

Advertisement