জাতীয়

টিসিবিতেও খুচরা বিক্রি হয় না পণ্য, কিনতে হয় প্যাকেজে

আজিমপুর কবরস্থানের সামনে বৃহস্পতিবার বিকেলে টিসিবির পণ্যবাহী ট্রাকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাপ্রহরী সালাউদ্দিন মিয়া। দীর্ঘলাইনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দু’কেজি আলু দিতে বললেন। একটু পরেই টিসিবির ট্রাকের ওপর থেকে একজন জানান, প্যাকেজ ছাড়া খুচরা বিক্রি হবে না।

Advertisement

প্রয়োজন হলে সব আইটেম (আলু, তেল, মসুর ডাল, চিনি ও পেঁয়াজ) এর প্যাকেজ নিতে হবে। এ কথা শুনে প্যাকেজের দাম কত জানতে চাইলে বিক্রেতা জানান, প্যাকেজ ৬৫০ টাকা। একটু ভেবে সালাউদ্দিন মিয়া পকেট হাতড়ে একটি ৫০০ টাকার নোট ও ভাংতি ১৫০ টাকা বের করে প্যাকেজ কিনলেন।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গরিবের উপকারের জন্য নাকি টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হয়। প্যাকেজ না করে খুচরা আইটেম বিক্রি করলে আমাদের মতো গরিব মানুষ উপকৃত হতো। সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, টিসিবির আলু, মসুর ডাল, চিনি পেঁয়াজ ও তেল কেনার জন্য নারী ও পুরুষের দীর্ঘ লাইন। টিসিবির কর্মীদের কেউ বস্তা থেকে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী বের করে মেপে ব্যাগে ভরে দিচ্ছেন, কেউ লাইন ঠিক আছে কিনা তা দেখছেন আরেকজন ক্রেতার কাছ থেকে টাকা বুঝে নিচ্ছেন।

লাইনে দাঁড়িয়ে সবার এক কথা টিসিবির পণ্যও এখন বড় লোকের জন্য বিক্রি হচ্ছে। গরিব মানুষের পক্ষে সাড়ে ৬শ টাকা খরচ করে প্যাকেজ কেনা সম্ভব নয়। রানু আক্তার নামে একজন গৃহবধূ বলেন, ৩০ টাকা দরে আলু বিক্রি হচ্ছে শুনে তিনি কিনতে এসেছেন। কিন্তু এখানে এসে শোনেন প্রতিকেজি তেল ৮০ টাকা (২ লিটারের), চিনি ও ডাল প্রতিকেজি ৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা ও আলু ৩০ টাকায় বিক্রি করছেন। খুচরা বিক্রি না করায় তিনি ফিরে যাচ্ছেন।

Advertisement

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টিসিবির বিক্রেতারা বলেন, ‘খুচরা বিক্রি করলে বেশিরভাগ মাল অবিক্রিত থেকে যায়। এ কারণে ঠিকাদার প্যাকেজ ছাড়া বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।

এমইউ/এমআরএম/এমএস