শরীয়তপুর সদর উপজেলায় গণধর্ষণের অভিযোগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর একটি ধর্ষণ মামলা করেন ভুক্তভোগী এক তরুণী। এ মামলার অন্যতম আসামি নড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার আব্দুল ওয়াদুদ চৌকিদার (৩৫)। জানা গেছে, গণধর্ষণ মামলার আসামি হয়েও এখনো স্বপদে বহাল শিক্ষা কর্মকর্তা।
এ মামলার অভিযুক্ত অন্যরা হলেন-মাদারীপুর সদর উপজেলার চর খোয়াজপুর গ্রামের শাহ জাহান মৃধার ছেলে ইমরান হোসেন ইমন (২৭), শাহদাত মৃধা (৩৫)।
মামলা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই তরুণী তার ভাগনির বাসা মাদারীপুর থেকে অটোরিকশায় নিজ বাসা শরীয়তপুরে আসছিলেন। শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের পাকা সড়কে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকেন ইমরান, শাহদাতসহ অজ্ঞাত চার-পাঁচজন। হঠাৎ তারা জোরপূর্বক অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মুখ চেপে কাশিপুর গ্রামের মো. নুরু শিকদার তার ভাইয়ের পরিত্যক্ত বাথরুমে নিয়ে যান। পরে পর্যায়ক্রমে তারা ধর্ষণ করেন।
ধর্ষণের ঘটনায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর ইমরান, শাহদাত ও নড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার ওয়াদুদসহ অজ্ঞাত পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে ওই তরুণী পালং মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার আসামিরা দুই সপ্তাহের মধ্যে জামিনে বের হয়ে যান।
ওই যুবতী আরও জানান, ওইদিন তিনি মাদারীপুর জেলার চরমগুরিয়া শাখা থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। ব্যাগে থাকা ওই টাকা নিয়ে যান ইমরান, শাহদাত ও ওয়াদুদরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার ওয়াদুদ চৌকিদার মোবাইলে জাগো নিউজকে বলেন, সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় আমি জামিনে আছি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, নড়িয়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ওয়াদুদ চৌকিদারের বিরুদ্ধে একটি গণধর্ষণ মামলা হয়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে পালং মডেল থানার ওসির সঙ্গে কথা বলব। ঘটনার সত্যতা পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। ঊর্ধ্ব ন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ওই মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তনাধীন।
মো. ছগির হোসেন/এসআর/এমকেএইচ