আন্তর্জাতিক

চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ : শেষবেলায় ট্রাম্পের ‘টুইস্ট’

ট্রাম্প প্রশাসনের শাসনামলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক সম্পর্ক একেবারেই তিক্ত হয়ে উঠেছে। একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আর বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে নিজের চীনবিরোধী শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু পুনর্নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় আগামী জানুয়ারিতে জো বাইডেনের হাতে হোয়াইট হাউসের চাবি তুলে দিতে হচ্ছে তাকে।

Advertisement

তবে ক্ষমতার শেষ মুহূর্তে এসেও চীনকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ ট্রাম্প। বরং প্রথমবারের মতো চীনা মুদ্রার মান বিবেচনা করে চীনের তৈরি কোনও পণ্যে শুল্কারোপ করেছে তার সরকার।

বিবিসির তথ্যমতে, সম্প্রতি চীনের তৈরি ‘টুইস্ট টাই’-এ শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ। সাধারণত রুটি বা সবজির পলিব্যাগ ও ইলেকট্রিক তার বাঁধতে এ টুইস্ট টাই ব্যবহৃত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস এক বিবৃতিতে বলেছেন, মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও অন্যান্য অন্যায় অনুদানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক লড়াইয়ের জন্য আইনি সরঞ্জাম ব্যবহার অব্যাহত রাখবে এবং মার্কিন ব্যবসায়ী ও কর্মীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করবে।

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, টুইস্ট টাই তৈরিতে চীন সরকার স্থানীয় উৎপাদকদের ‘অনৈতিকভাবে’ ভর্তুকি দিচ্ছে, যার কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন মার্কিন ব্যবসায়ীরা।

মূলত এ অভিযোগ তুলেছিল মিনেসোটার বেডফোর্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি টুইস্ট টাই গোটা যুক্তরাষ্ট্রেই পাওয়া যায়। চলতি বছরের শুরুর দিকে এক ব্লগ পোস্টে বেডফোর্ড দাবি করেছিল, সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনা পণ্যের প্রভাব কমে আসবে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা টুইস্ট টাইয়ের মূল্য ছিল আনুমানিক ৪ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলার, আর তার আগের বছর ছিল ৬ দশমিক ৮ মিলিয়ন। দেশটিতে টুইস্ট টাইয়ের বাজার এতটাই ছোট যে, সরকার এটি আমদানির হিসাবও রাখে না। অর্থাৎ ওপরের ওই হিসাব দিয়েছে বেডফোর্ড নিজেই।

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের মতে, চীনের অবমূল্যায়িত মুদ্রা হিসাব করলে দেশটি টুইস্ট টাই রপ্তানিকারকদের ১২২ দশমিক ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিয়েছে। ২০১৮ সালের পর ডলারের বিপরীতে বর্তমানে চীনের ইউয়ানের মান সর্বোচ্চ।

Advertisement

ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কারোপের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে আগামী এপ্রিলে। অবশ্য তার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশন।

কেএএ/এমএস