জাতীয়

গোলাপের চাষ ছেড়ে ঝালমুড়ি বিক্রি

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ফুল ব্যবসায় ধস নেমেছে। প্রায় ৭ মাস বাজারে ফুল বেচাকেনা হয়নি বললেই চলে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেউ কেউ বাগানের ফুল কেটে বাজারে নিলেও পানির দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এতে করে বর্গাচাষিরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকে জীবনের তাগিদে ফুল চাষ ছেড়ে অন্য পেশায় গেছেন। এমনই একজন আব্দুল মোবারক। ফুল চাষ ছেড়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার জোগাচ্ছেন।

Advertisement

‘গোলাপ গ্রামে’ বসবাস করেন আব্দুল মোবারক। অর্ধযুগ ধরে ফুল চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন তিনি। তবে করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে ছেড়েছেন ফুল চাষ। ঝালমুড়ি বিক্রি করে পরিবারের অন্ন জোগাচ্ছেন।

জাগো নিউজকে মোবারক জানান, আগে দুধের ব্যবসা করে পরিবার চালাতেন। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে করতেন সঞ্চয়ও। মেয়ের জামাইয়ের পরামর্শে ফুল চাষ শুরু করেন। ৪ লাখ টাকা দিয়ে ৫ বছরের চুক্তিতে ৩ একর জমি ভাড়া নিয়ে ফুলের বাগান করেন। চারা লাগানোর একবছর পর গাছে ফুল আসে। কিন্তু করোনার কারণে সেই ফুল বিক্রি করতে পারেননি।

তিনি জানান, দুই মেয়েসহ পরিবারের ৪ সদস্যের মুখে আহার তুলে দিতে পারছিলেন না বলে বাধ্য হয়ে এক বন্ধুর পরামর্শে ঝালমুড়ির ব্যবসা শুরু করেছেন। গত ৩ মাস ধরে তিনি এ ব্যবসা করেছেন। প্রতিদিন ৫০০-৭০০ টাকার ঝালমুড়ি বিক্রি করে ২০০-৩০০ টাকা তার লাভ হয়।

Advertisement

ক্ষুদ্র এই ব্যবসায়ী আব্দুল মোবারক বলেন, ‘ফুল ব্যবসায় করতে গিয়া অনেক দেনার মধ্যে পড়ছি। পাওনাদারগো হাত পা ধইরা সময় বাইন্ধা লইছি। হেরাও এখন আর চাপ দেয় না। ফুলের বাগান থাইকা যেই টাকা আইতাছে হেইডা দিয়া মেয়ের জামাইয়ের সংসার চলে। আমার সংসার চালানোর লাইগা ঝালমুড়ির ব্যবসা বাইছা লইছি।’

সাভার বিরুলিয়া ‘গোলাপ গ্রামের’ সৌন্দর্যের গল্প ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। এ কারণে প্রতিদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা তাদের পরিবার বা পরিজনকে নিয়ে গোলাপের অপরূপ মহিমা পরিদর্শনে ছুটে আসেন। গ্রামের চারপাশে দর্শনার্থীদের জন্য কোন ধরনের সু-ব্যবস্থা না থাকলেও ফুলপ্রেমীরা তাদের চোখ ও মনের ক্ষুধা মেটাতে বাগানে বেড়াতে আসেন। এ গ্রামের বসবাস করা প্রায় শতভাগ ফুল চাষ ও বিক্রি করে তাদের পরিবারের সদস্যদের অন্ন-বস্ত্র জোগায়।

দেখা গেছে, তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গোলাপ গ্রামের ঢোকার পথে ছোট একটি কাঠের চৌকি বসিয়ে সেখানে বুট, চানাচুর ও বিভিন্ন উপাদান দিয়ে ঝালমুড়ি বানিয়ে বিক্রি করেন। গোলাপ গ্রাসে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা তার কাছ থেকে ঝালমুড়ি কিনতেও দেখা যায়।

এমএইচএম/এফআর/এমকেএইচ

Advertisement