দেশজুড়ে

৪২ বছরের ভোগদখলের জমি ‘খাস’ বলে বিত্তবানদের মধ্যে বরাদ্দের অভিযোগ

যশোরের বেনাপোলে একটি পরিবারের মালিকানাধীন জমি ‘খাসজমি’ বলে চালিয়ে বিত্তবান পরিবারের মধ্যে বরাদ্দের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তাদের ক্রয়কৃত জমির বিষয়ে একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। আদালত ওই জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। তারপরও বেনাপোল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোল্যা ওই জমি কয়েকজনকে বরাদ্দ দিয়েছেন।

Advertisement

বেনাপোল পোর্ট থানার বড় আঁচড়া মৌজায় তিন তলা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও ওই জমি বিত্তশালী পরিবারকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে অভিযোগ করেছে বেনাপোলের ছোট আঁচড়া গ্রামের একটি পরিবার। এই জমির মালিকানাকে কেন্দ্র করে যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে ওই পরিবার।

বেনাপোল পোর্ট থানার ছোট আঁচড়া গ্রামের আব্দুর রহমান, মাসুদুর রহমান ও মাহবুবুবর রহমানের জমিটির বিষয়ে ভাষ্য, ‘আমাদের বাবা (আলী আকবর সফি উদ্দিন) ১৯৭৮ সালে বড় আঁচড়া মৌজায় ছোট আঁচড়া মাঠে গাতিপাড়া গ্রামের রবিউল ও সামাউল ইসলামের কাছ থেকে ৩৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ওই জমি ১৯৭৮ সালের ২৪ মে তারিখে রেজিস্ট্রি হয়। যার খতিয়ান নম্বর ১১০৩, আরএস নম্বর ৮৭৮, ৯৭৫, ৯৭৩। ১৯৯০ সালে মাঠ জরিপে ওই জমির মাঠের পর্চা দেয়া হলেও প্রিন্ট পর্চা দেয়া হয়নি। এই সুযোগে বেনাপোল ভূমি অফিসের তহসিলদার আবু সাঈদ আটজনকে ওই জমি বরাদ্দ দেন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে।’--‘সরকারি বিধিমালায় আছে—কোনো জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলকালে ওই জমি বরাদ্দ দেয়া যাবে না। তারপরও আদালতের আদেশ অমান্য করে আবু সাঈদ বড় অংকের অর্থের মাধ্যমে এ জমি বরাদ্দ দেন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে। জমির প্রিন্ট পর্চা না পাওয়ায় ওই জমির রেকর্ড সংশোধন মামলা করা হয় ২০১৬ সালে। যার মামলা নম্বর ৫৪/১৬।’

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, যে আটজনের নামে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তারা সবাই বিত্তশালী ও মধ্যবিত্ত। সবার পাকা বাড়ি ও জমি আছে।

Advertisement

ওই জমি যাদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তারা হলেন-বেনাপোল পোর্ট থানার গাজিপুর গ্রামের রজব আলীর ছেলে শের আলী, ছোট আঁচড়া গ্রামের শের আলীর মেয়ে মনোয়ারা খাতুন, একই গ্রামের লিয়াকত আলীর মেয়ে ছকিনা খাতুন, বড় আঁচড়া গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে বাবু, নামজগ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে নুর ইসলাম, গাতিপাড়া গ্রামের বরকতের মেয়ে আমেনা খাতুন ও ছোট আঁচড়া গ্রামের ছবেদ আলীর ছেলে লিয়াকত আলী। এরমধ্যে শের আলীর তিন তলা একটি পাকা বাড়িও রয়েছে। বাকিদেরও বাড়ি ও জমি আছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আরও বলেন, আমরা এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় ভূমি কর্মকর্তা আবু সাঈদের নামে ২০১৮ সালের ৯ ডিসেম্বর একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডি নম্বর ৩২৮। এছাড়া গত ১৪ জানুয়ারি যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এই জমিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষ না হয়, সেজন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছেন আদালত। তারপরও জমি বরাদ্দ দিয়েছেন আবু সাঈদ।

পরিবারটির দাবি, ১৯৭৮ সাল থেকে তারা জমিটির ভোগদখল করে আসছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেনাপোল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোল্যা বলেন, ‘যারা অভিযোগ করেছেন তাদের নামে কোনো জমি নেই। এটা সরকারি খাসজমি। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী ভূমিহীনদের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’

Advertisement

শার্শা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রাসনা শারমিন মিথি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনারা বলার পর বিষয়টি জানলাম। আমি বিষয়টি দেখছি। খোঁজখবর নিয়ে পরে আপনাদের বিস্তারিত জানাবো।’

জামাল হোসেন/এসআর/এমএস