দেশজুড়ে

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ করে ৬ ছাত্রলীগকর্মী, সহযোগী দুজন

সিলেটের মুরারীচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণ করে সাইফুর রহমানসহ ৬ জন। আর এতে সহযোগিতা করেন আরও দুজন।

Advertisement

এ গণধর্ষণের মামলায় বৃহস্পতিবার (০৩ ডিসেম্বর) দেয়া অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এ কথা জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। সকালে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আবুল কাশেমের আদালতে ৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ পরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

চার্জশিটে প্রধান আসামি করা হয়েছে ছাত্রলীগকর্মী সাইফুর রহমানকে। সেখানে বলা হয়েছে, আট জনের মধ্যে ছয়জন সরাসরি ধর্ষণে জড়িত। বাকি দুজন তাদেরকে সহযোগিতা করেছে। তারা সবাইকে গ্রেফতার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

চার্জশিট অনুযায়ী এ ঘটনায় সরাসরি জড়িতরা হলেন- সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবা উল ইসলাম রাজন মিয়া। আর রবিউল হাসান ওরফে ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুমের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

Advertisement

এর আগে গত ৩০ নভেম্বর এ ঘটনার ডিএনএ প্রতিবেদন আদালতের মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে এসে পৌঁছে। ডিএনএ প্রতিবেদনে ধর্ষণের ঘটনায় সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি ও অর্জুন লস্করের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

গত ১ অক্টোবর ও ৩ অক্টোবর এই আট আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহের পর পাঠানো হয় ঢাকার ল্যাবে। ডিএনএ রিপোর্ট না পাওয়ায় অভিযোগপত্র আটকে থাকার কথা জানিয়েছিল পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের শিকার হন ওই গৃহবধূ। স্বামীকে বেঁধে রেখে ধর্ষণের পর তাদের মারধর করে টাকা-পয়সাও ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। ওই রাতেই ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাদী হয়ে নগরের শাহপরাণ থানায় মামলা করেন।

ছামির মাহমুদ/এসএস/জেআইএম

Advertisement