দেশজুড়ে

আর কত অপেক্ষা?

প্রায় ১১ ঘণ্টা পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টা থেকে এ রুটে ফেরি চলাচল শুরু করা হয়।

ঘন কুয়াশায় সোমবার রাত সোয়া ১১টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় নদী পারের অপেক্ষায় দৌলতদিয়া প্রান্তের সড়কে আটকা পড়েন শত শত যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। তীব্র শীতে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এ নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন ও লক্ষাধিক যাত্রী নদী পার হয়। এ রুটটি রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম। কিন্তু ফেরি চলাচল বন্ধ হলে যেন দুর্ভোগের সীমা থাকে না এ রুট দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের।

দীর্ঘ সময় এবং ধারাবাহিকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া প্রান্তের সড়কে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, পণ্যবাহী ট্রাকসহ প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার ও গোয়ালন্দ মোড় সড়কের প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাক সিরিয়ালে রয়েছে। সড়কে শীতের মধ্যে আটকে থেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা। এছাড়া সড়কের পাশে নেই পর্যাপ্ত টয়লেট সুবিধা।

ঘাটে অপেক্ষমান সাঈদুল জানান, তারা কয়েকজন চুয়াডাঙ্গা থেকে বাইক নিয়ে ঢাকা হয়ে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছেন। সোমবার রাত ১২টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে পৌঁছেছেন। কিন্তু ফেরি বন্ধ থাকায় আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত নদী পার হতে পারেননি।

বাসযাত্রী সাকিব জানান, তার অসুস্থ বাবাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ফেরি বন্ধ থাকায় রাত ১২টা থেকে দৌলতদিয়া প্রান্তে অপেক্ষা করছেন। এভাবে আর কত সময়?

তিনি বলেন, একদিকে কুয়াশা অন্যদিকে শীত। তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। প্রতিবছরই এমন সমস্যা হয়, কিন্তু কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে কোনো উদ্যোগ নেয় না। এ অবস্থায় এখানে সেতু প্রয়োজন। সেতু হলে খোলা আকাশের নিচে আটকে থাকার ভোগান্তি দূর হবে।

ট্রাকচালক আল আমিন জানান, তিনিসহ বেশ কয়েকটি কাঁচামালবাহী ট্রাক সিরিয়ালে ফেরি ঘাটের সংযোগ সড়কে গতকাল রাত থেকে আটকে আছেন। সকাল সোয়া ৯টা পর্যন্ত ফেরিতে উঠতে পারেননি। মালগুলো ঢাকা, সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে যাবে। এখন কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার উপক্রম। সমস্যা সমাধানের উপায় একটা ব্রিজ।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে রাত থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এখন পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। দ্রুত সিরিয়ালে থাকা যানবাহনের চাপ কমে যাবে।

রুবেলুর রহমান/এফএ/জেআইএম