বগুড়ার ধুনট উপজেলায় একাধিক ব্যক্তির ধর্ষণের শিকার হয়ে সন্তান জন্ম দিয়েছে এক স্কুলছাত্রী। সন্তানের পিতৃ পরিচয় নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। অবশেষে তৃতীয় দফায় ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড) পরীক্ষায় সন্তানের বাবাকে শনাক্ত করা গেছে।
ডিএনএ পরীক্ষার সনদ অনুযায়ী রাকিব হোসেন (২৮) নামের এক পরিবহন শ্রমিক ওই স্কুলছাত্রীর সন্তানের বাবা।
রাকিব উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আবু তালেবের ছেলে।
শনিবার (১২ ডিসেম্বর) ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর বাবার দায়ের করা মামলাটি প্রায় দুই বছর ধরে তদন্ত শেষে বগুড়া আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। মামলায় রাকিব হোসেন ও একই এলাকার অফফের আলীর ছেলে বকুল হোসেনকে (২৩) অভিযুক্ত করা হয়েছে। ডিএনএ টেস্ট ও তদন্তে দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় এ মামলা থেকে স্কুলছাত্রীর নানা রশিদ মণ্ডলকে অব্যাহিত দেয়া হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণে জন্ম নেয়া সন্তানের মা স্কুলছাত্রী উপজেলার ছোট চিকাশি-মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা। একই এলাকার কৈয়াগাড়ি গ্রামে নানা রশিদ মণ্ডলের বাড়ি থেকে স্থানীয় বালিকা বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে লেখাপড়া করত সে। পার্শ্ববর্তী রঘুনাথপুর গ্রামের অফফের আলীর ছেলে বকুল হোসেনের (২৩) সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল বিকেলে বকুল ওই ছাত্রীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় তাদের ধরে ফেলেন ছাত্রীর নানা। ঘটনাটি প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে একই সময় নানা রশিদ মণ্ডলও নাতনিকে ধর্ষণ করেন।
ধর্ষণে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তার বাবা বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মেয়েটির নানা রশিদ মণ্ডল ও তার নাতি (প্রতিবেশী সম্পর্কে) বকুল হোসেনকে আসামি করা হয়। এ অবস্থায় ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়।
এদিকে আদালতের নির্দেশে থানা পুলিশ সন্তানসহ স্কুলছাত্রীকে রাজশাহী শিশু ও কিশোরী নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে (সেফহোম) রাখেন। এ অবস্থায় ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি রশিদ মণ্ডল ও বকুল হোসেনকে গ্রেফতার করে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া নবজাতকের জন্মদাতার পরিচয় শনাক্ত করতে রশিদ ও বকুলের ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়। কিন্তু তাদের ডিএনএ পরীক্ষায় সন্তানের জন্মদাতার পরিচয় মেলেনি।
পরে আদালতে হাজির করা হলে স্কুলছাত্রী পুনরায় রাকিব হোসেনের নাম প্রকাশ করেন। গত ৭ আগস্ট নওগাঁ শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে রাকিবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতের আদেশে ৩ সেপ্টেম্বর ওই স্কুলছাত্রী ও তার পুত্রসন্তান এবং রাকিবকে ঢাকা সিআইডির সদর দফতরে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়। সেখানে পরীক্ষায় সন্তানের জন্মদাতার পরিচয় মিলেছে।
জানা গেছে, রাকিব প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। মামলায় অভিযুক্ত আসামি রাকিব ও বকুল বগুড়া বর্তমানে কারাগারে।
এসআর/এমকেএইচ