বিলের একটি খেত দখল করাকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনার মদনে দুপক্ষের সংঘর্ষে দুই নারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মদন ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের সামনের হাওরে আইন বিলে এ ঘটনা ঘটে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া চলছিল।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মদন দক্ষিণপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম ও তার পক্ষের লোকজনের সঙ্গে একই গ্রামের বাসিন্দা মদন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রহিছ মিয়া ও তার পক্ষের লোকজনের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে পক্ষ দুটির মধ্যে হত্যাসহ ১৫ থেকে ২০টির মতো মামলা রয়েছে। তাজুল ইসলামের পক্ষের লোক মানিক মেম্বার গত চারদিন আগে গ্রামের সামনে আইনবিলের এক একর ৪৫ শতাংশ জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করেন। ওই জায়গাটি রইছ মিয়ার লোকজন খাস জায়গা দাবি করে তাদের দখলে নেয়ার চেষ্টা চালান। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই মদন থানার পুলিশ রোপণকৃত জমির পাশে অবস্থান নেয়।
বিকেল পৌনে তিনটার দিকে রহিছ মিয়া পক্ষের শতাধিক লোকজন ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে খেতের রোপণকৃত বোরো ধানের চারা নষ্ট করে তাদের দখলে নিতে চান। এতে মানিক মেম্বারের লোকজন বাধা দিলে পুলিশের সামনেই প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুই নারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।
খবর পেয়ে নেত্রকোনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনে। সন্ধ্যার দিকে আবার দফায় দফায় ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া চলে। বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মদন দক্ষিণপাড়া গ্রামের আব্দুল আহাদের স্ত্রী ঝর্ণা আক্তার জানান, সন্ধ্যার সাতটার দিকে প্রতিপক্ষের কালাচান নামের একজন মারা যাওয়ার গুজবে আমাদের পক্ষের অন্তত ১৫টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও ভাংচুর করা হয়েছে। ১৫টি গরু নিয়ে গেছে। পুরুষ সদস্যদের বাড়িতে না পেয়ে নারী ও শিশুদের ওপর মারধর ও নির্যাতন চলছে।
এ ব্যাপারে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘দুপক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খালিয়াজুরি সার্কেলসহ আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি।’
পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী সন্ধ্যা ৭টার দিকে বলেন, ‘নেত্রকোনা থেকে আরও অতিরিক্ত ১৫ জন পুলিশ রওনা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে।’
এইচ এম কামাল/এসআর/এমকেএইচ