লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়ন কেনার জেরে যুবলীগ নেতা রাসেদুল হাসানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন ছয়জন।
পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মো. শাহাজাহানের লোকজন এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রতনপুর এলাকায় রাসেদুল হাসানের প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় উভয়পক্ষের লোকজন আহত হয়। এদিকে শাহজাহান ও রাসেদ হামলার ঘটনায় একে অপরকে দায়ী করছেন।
আহতরা হলেন, কাউন্সিলর প্রার্থী রাসেলের অনুসারী যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন, শাহাদাত হোসেন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম, সবুজ হোসেন এবং কাউন্সিলর শাহাজাহানের অনুসারী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মামুন হোসেন ও ছাত্রলীগ নেতা জুনাইদ হোসেন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এলাকাবাসী জানায়, ৩০ জানুয়ারি রামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শুরু হয়েছে। পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে যুবলীগ নেতা রাসেদুল হাসান সমর্থকদের নিয়ে দুপুরে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। রাসেদ পৌর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও মেসার্স রাসেদ ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী। মনোনয়ন সংগ্রহ শেষে রাশেদ তার প্রতিষ্ঠানে পৌঁছলেই কাউন্সিলর শাহাজাহানের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের ছয়জন আহত হয়। শাহাজাহান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।
যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন জানান, শাহজাহানের ভাতিজা মামুনের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন হামলা চালিয়েছে। আমাদের এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। কাউন্সিলর প্রার্থী রাসেদের প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরও চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কাউন্সিলর প্রার্থী রাসেদুল হাসান বলেন, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানে পৌঁছালে হামলার শিকার হই। এতে যুবলীগের কয়েকজন নেতা আহত হয়েছেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানানো হয়েছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর শাহজাহান জানান, রাসেদের অনুসারীরা আগে আমার লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমার দুইজন লোক আহত হয়েছে।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। হামলার ঘটনায় রাশেদ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কাজল কায়েস/এএইচ/এমএস