দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে প্রতিবেশী ইসলাম জোয়ার্দার করাত কল (স’মিল) বন্ধের ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ করেছেন মিলের মালিক রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বহরপুর মধ্যপাড়ার মো. চাঁদ আলী শেখ। ইসলাম জোয়ার্দার ও চাঁদ আলী শেখ সম্পর্কে মামাতো-ফুপাতো ভাই বলে জানা গেছে।
সরজমিনে জানা যায়, ৮ মাস আগে রাজবাড়ীর মুরগির ফার্ম ও বালিয়াকান্দি সড়কের বহরপুর এলাকায় খাল ভরাট করে প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ করে স’মিল দিয়েছেন চাঁদ আলী শেখ। সেখানে শ্রমিকসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী প্রস্তুত করে তিন মাস আগে চালু করেছেন মিলের কার্যক্রম। মিলের আশপাশে অনেক বসতি থাকলেও সেসময় স্থানীয়দের কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তবে মিল চালুর এক মাস পর মিলের পাশের বাসিন্দা তার মামাতো ভাই ইসলাম জোয়ার্দার শব্দ ও বায়দূষণের অভিযোগ করেন।
সেসময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সবার সম্মতিতে শব্দ ও ধুলা রোধে ইসলাম জোয়ার্দারের বাড়ির পাশে ৭ ফুট উঁচু দেয়াল তৈরি করে দেন চাঁদ আলী শেখ। কিন্তু পরবর্তীতে সবার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ইসলাম জোয়ার্দার গত ৯ নভেম্বর পরিবেশ অধিদফতরে লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়া দুই লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় ইসলাম জোয়ার্দার মিল বন্ধ করতে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করছেন বলে মালিক চাঁদ আলী শেখ এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।
ইসলাম জোয়ার্দারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৩ নভেম্বর পরিবেশ অধিদফতর মিলটি বন্ধের নোটিশ দেয়। সেই আলোকে মিল বন্ধ রেখে মালিক চাঁদ আলী শেখ পরিবেশ অধিদফতরের শরণাপন্ন হন এবং ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেন। এছাড়া এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরাও মিলটি চালু রাখার সম্মতি দিয়েছেন। এই মিলের সাথে ১৭ জন শ্রমিক এবং প্রায় শতাধিক কাঠ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ী জরিত। যাদের আয়ের একমাত্র উৎস মিলটি। মালিক, শ্রমিক ও কাঠ ব্যবসায়ীরা অনেকেই ঋণগ্রস্ত। মিল বন্ধ থাকলে তারা বিপাকে পড়বেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, স’মিলের কারণে তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বরং এলাকার উন্নয়ন ঘটছে। যখন মিল চালু হয় তখনও চাঁদ আলী শেখ ও ইসলাম জোয়ার্দারের মধ্যে কোনো সমস্যা ছিল না। মিল চালুর প্রায় এক মাস পর কাঠ চেরাইয়ের ধুলা-বালি ইসলাম জোয়ার্দারের বাড়ড়িতে যায় বলে অভিযোগ করেন। মিলের দক্ষিণ পাশে উঁচু দেয়াল নির্মাণ করে দেয়া হলেও ইসলাম জোয়ার্দার পরিবেশ অধিদফতর বরাবর শব্দ ও বায়ুদূষণের অভিযোগ করেন। তার এই অভিযোগ মোটেও সত্য নয়।
অভিযোগকারী ইসলাম জোয়ার্দার জানান, মিলের শব্দে শিশুদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে এবং মিলের ধুলায়ও সমস্যা হচ্ছে। যে কারণে প্রতিকার চেয়ে পরিবেশ অধিদফতরসহ বিভিন্নস্থানে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
মিলের মালিক চাঁদ আলী শেখ জানান, ‘ঋণ করে প্রায় ২০ লাখ টাকা খচর করে মিল দিয়েছেন। এখন মিলের আয়ে তার ও শ্রমিকদের সংসার চলে। এছাড়া মিল থেকে নিয়মিত প্রায় শতাধিক কাঠ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা কাঠ নেন। মিল বন্ধ হওয়াতে তারাও বিপাকে পড়েছেন। সবাইকেই কিস্তি দিতে হয়। এ অবস্থায় শ্রমিক ও এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে গত ১ জানুয়ারি ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে মিলটি আবার চালু করা হয়েছে।’
ফরিদপুর পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এ এইচ এম রাসেদ বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে স’মিলের পরিবেশের ছাড়পত্র না থাকায় বন্ধের নোটিশ দেয়া হয়েছে। মিল মালিক ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছেন, যা যাচাই-বাছাই চলছে।’
বহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, ‘পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র পেতে তিনি অনাপত্তিপত্র দিয়েছেন এবং এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে স’মিলটি আবার চালু করা হয়েছে।’ এছাড়া মিলটি শুধু একটি পরিবারের জন্য সমস্যা, অন্যদের কোনো সমস্যা নেই মর্মে তিনি গণস্বাক্ষরিত একটি পত্রও পেয়েছেন বলে জানান।
রুবেলুর রহমান/ইএ/এমআরএম