পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও তা তোয়াক্কা না করে ফাঁদ পেতে বন্যপাখি শিকার করছে ঠাকুরগাঁওয়ের একশ্রেণীর পাখি শিকারি।
শিকার করা সেসব পাখিকে বন্দী করা হচ্ছে খাঁচার ভেতরে। তারপর খাঁচাবন্দি পাখিগুলো প্রকাশ্যেই স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এ পাখিগুলো কিনছেন মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তরা।
শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) জেলার বালিয়াডাঙ্গীর চাড়োল ইউনিয়নের হাটে এ দৃশ্য দেখা যায়।
চাড়োল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ‘লাহিড়ী হাটে’ গড়ে উঠেছে বন্যপাখি বিক্রির এ হাট। প্রত্যেক সপ্তাহের সোমবার ও শুক্রবার এখানে বসে বন্যপাখির হাট। অথচ হাটটি ইজারার মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আদায় করছে। শুধু এ হাটেই নয়, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বন্যপাখি বিক্রি হচ্ছে।
২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক লাখ টাকা জরিমানা, এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড। একই অপরাধ পুনরায় করলে দুই লাখ টাকা জরিমানা, দুই বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে হাট-বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিক্রি করা হচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছে- টিয়া, গাড়োল টিয়া, ঘুঘু, শালিক, বক, পানকৌড়ি ও ওয়াক্কাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এগুলোর মধ্যে প্রতি জোড়া টিয়া ৮০০ টাকা, ঘুঘু ৪৫০ টাকা, বক জোড়া ৩০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও ছোট আকৃতির বিভিন্ন পাখি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা জোড়া করে।
জানা গেছে, স্থানীয়রা বাধা দিলেও পাখি শিকারিদের পক্ষ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা স্থানীয় মানুষদের হুমকি দিয়ে আসছেন।
স্থানীয়রা জানান, পাখি বিক্রি ও কিনতে আসাদের বাধা দিলেও তারা শোনেন না। দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে কঠোরভাবে বন্যপ্রাণি নিধন দমন করা উচিত।
পাখি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চাড়োল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার চ্যাটার্জী।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। পরিষদ ও গ্রাম পুলিশ পাখি নিধনরোধের চেষ্টা করছে।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা হরিপদ দেবনাথ বলেন, যখনই জানতে পারি কোথাও পাখি শিকার হচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করছি।
প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় বন্যপাখি শিকার বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন- এমনটাই আশা প্রকৃতিপ্রেমী সচেতন মানুষদের।
তানভীর হাসান তানু/এসএমএম/এমএস