দেশজুড়ে

৩৫৬ কোটি টাকার অবৈধ পণ্য আটক করেছে কোস্টগার্ড

দেশের উপকূলীয় জেলা খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও সুন্দরবন অঞ্চলে কাজ করছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের পশ্চিম জোন। সীমান্তবর্তী এসব এলাকায় অবৈধ চোরাচালান রোধে তৎপরতা রয়েছে বাহিনীটির। ২০২০ সালে এই এলাকায় কোস্টগার্ড প্রায় ৩৫৬ কোটি টাকার অবৈধ পণ্য আটক করেছে।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশিক আহম্মদ সিদ্দিক বলেন, ২০২০ সালে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন চোরাকারবারকারী, পাচারকারী, অবৈধ জেলে, তক্ষক, বিদেশি মদ, গাঁজা, ইয়াবা, হরিণের মাংস-মাথা-চামড়া, অবৈধ বোট ও অবৈধ জাল আটকসহ বিভিন্ন অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন পণ্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ৩৫৫ কোটি ৮০ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।

এ সময় কোস্টগার্ডের অভিযানে ৭৬ জন পাচারকারী, হরিণের ৬০ কেজি মাংস, ১টি মাথা ও ৫টি চামড়া, বিরল প্রজাতির ২টি তক্ষক, বিদেশি মদ ৩৫৯ বোতল, গাঁজা ৭ কেজি ৭০৫ গ্রাম, ইয়াবা ৩১৯ পিস, আগেয়াস্ত্র ২টি, ইঞ্জিনচালিত বোট ২৯টি, ছোট বোট ১৯টিসহ অবৈধ ১৫৬ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগরে দেশের জলসীমায় মৎস্য সম্পদ সুরক্ষা ও ভারতীয় জেলেদের উৎপাত ঠেকাতে কঠোর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন। ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর কোস্টগার্ডের টহল জাহাজ বিসিজিএস সোনার বাংলা ও ২২ ডিসেম্বর বিসিজিএস অপরাজেয় বাংলা জলসীমায় মাছ শিকারের অপরাধে দুটি ট্রলারসহ মোট ৩৩ জন ভারতীয় জেলেকে আটক করে। এ সময় জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ জাল, দড়ি ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

মোংলা, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা ও সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় একটি বেইস ও ১৪টি স্টেশন নিয়ে পরিচালিত হয় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের কার্যক্রম। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জাহাজ বিসিজিএস কামরুজ্জামান ও বিসিজিএস মুনসুর আলীসহ অন্যান্য টহল জাহাজগুলো বঙ্গোপসাগরে দেশীয় সমুদ্র সম্পদ ও অপার সম্ভাবনায়ময় সুনীল অর্থনীতি সুরক্ষায় কাজ করছে।

মো. এরশাদ হোসেন রনি/এমএইচআর/জেআইএম