দেশজুড়ে

গরু চুরির প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গরু চুরি রোধে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শনিবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে মির্জাপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের উয়ার্শী, খৈলসিন্দুর, হালুয়াপাড়া, দেউলীপাড়া ও উত্তর রোয়াইলের ভুক্তভোগী ২২ পরিবারের সদস্যসহ শতাধিক এলাকাবাসী এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উয়ার্শী গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শরীফুল ইসলাম খান মিনার।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উয়ার্শী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান খান ছিটু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ফরহাদ আলী খান শাহিন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর রহমান খান সুফল, লায়ন নজরুল ইসলাম কলেজের প্রভাষক এনায়েত হোসেন খান, উয়ার্শী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত দুই বছরে উয়ার্শী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ২২ পরিবারের ৪৫ টি গরু চুরি হয়েছে। চোরের দল রাতের আঁধারে পিকআপে করে গরু নিয়ে যায়। গরু চোরের উৎপাতে ভুক্তভোগী ওই ২২ পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা প্রথমে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং পরে থানায় অভিযোগ দিয়েও চোরের উৎপাত থেকে রেহায় পাচ্ছেন না।

উয়ার্শী এলাকায় গরু চুরি রোধে এলাকাবসীর পক্ষ থেকে পাঁচটি দাবি উত্থাপন করা হয়। এলাকার প্রবেশ পথে চেকপোষ্ট বসানো, কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা চালু, স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা, ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেয়া এবং গরুর বীমা চালু করা।

উয়ার্শী গ্রামের বাবর আলী খান বলেন, তিনি অগ্রণী ব্যাংক এবং প্রয়াস এনজিও থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে গরু কিনেছিলেন। গরু চুরি হওয়ায় ঋণের দায়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

উত্তর রোয়াইল গ্রামের সমর শিকদার বলেন, তার ৩টি গরু চুরি হওয়ায় সংসারে অভাব অনটন দেখা দিয়েছে।

উয়ার্শী গ্রামের রেহেনা বেগম বলেন, বেসরকারি এনজিও থেকে ঋন তুলে গরু লালন পালন করে সন্তান নিয়ে সংসার চালাচ্ছিলেন। চোরের দল তার গাভী চুরি করে নেয়ায় তিনি ঋনের টাকা পরিশোধে বিপাকে পড়েছেন।

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রিজাউল হক দিপু এ বিষয়ে বলেন, আমি এক সপ্তাহ আগে যোগদান করেছি। ওই এলাকায় আর কোনো গরু চুরি না হওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছি। ওই ইউনিয়নে পুলিশের বিশেষ টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ব্যবস্থা করে তাদের লাঠি, বাঁশি ও টর্চ লাইট সরবরাহ করা হবে।

এস এম এরশাদ/এমএইচআর/এমএস