শরীয়তপুর সদর পৌরসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ব্যবহার হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। ভোটারদের ভাবনা ছিল, ইভিএম পদ্ধতিতে দ্রুত ভোট দেয়া যায়। কিন্তু ভোটাররা বলছেন, ইভিএমে সময় বেশি লাগছে।
শনিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় সময় শেষ হয়ে গেলেও পৌরসভার কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোটার ও ভোটগ্রহণকারী সবার জন্য ইভিএম নতুন। ফলে প্রতিটি ভোটগ্রহণে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগছে। অনেকের আঙুলের ছাপ ম্যাচ করছে না। এ কারণে ভোটারদের দীর্ঘলাইন তৈরি হয়েছে। সময়ও বেশি লাগছে।
পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড শরীয়তপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্র, ৫ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ বিলাশখান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেসহ কয়েকটি কেন্দ্রে একই চিত্র দেখা গেছে।
পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ বিলাশখান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা রফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘আমার বয়স ৭০ বছর। দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। দুপুর আড়াইটার দিকে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখন ৪টা ৫ বাজে, তাও ভোট দিতে পারিনি।’
বিলাশখান গ্রামের আমেনা বেগম (৬৫) বলেন, ‘আমি দুপুর ১টা বাজে লাইনে দাঁড়িয়েছি। দাঁড়াতে কষ্ট হয়, তাই পুলিশ ভাইয়েরা আমাকে একটি বেঞ্চে বসিয়েছে। জীবনে অনেক ভোট দিয়েছি। কিন্তু এমন ভোট দেখিনি।’
পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ বিলাশখান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই হাজার ৭৪৭ জন ভোটার। এই কেন্দ্রে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬১ শতাংশ ভাগ পড়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ পাইনি। ইভিএমে ভোটগ্রহণ এ অঞ্চলে এটিই প্রথম। ফলে কিছুটা বিড়ম্বনা হচ্ছে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, এই পৌরসভায় মোট ভোটার ৩৮ হাজার ৭৪৭ জন। ভোটারদের মধ্যে ১৯ হাজার ৫৫৯ জন পুরুষ এবং ১৯ হাজার ১৮৮ জন নারী।
ছগির হোসেন/এসআর/এমএস