দ্বিতীয় ধাপে দিনাজপুর জেলার ৩টি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। এই সাত প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির ২ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২ জন, জাতীয় পার্টির একজন, বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির একজন এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন একজন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার শাহিনুর ইসলাম প্রামাণীক বলেন, কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সে হিসেবে ওই সাতজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যেই তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।
ওই তিন পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী ছিলেন মোট ১৪ জন। এর মধ্যে দিনাজপুর পৌরসভায় ৫ জন, বীরগঞ্জ পৌরসভায় ৫ জন এবং বিরামপুর পৌরসভায় ছিলেন ৪ জন।
দিনাজপুর পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৩০ হাজার ৮০৩ জন। এর মধ্যে মোট ৭৪ হাজার ৮৫৩ জন ভোটার ভোট দেন। এ হিসেবে এই পৌরসভায় কোনো মেয়র প্রার্থীকে জামানত টিকিয়ে রাখতে হলে কমপক্ষে ৯ হাজার ৩৫৬ ভোট পেতে হবে। কিন্তু জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আহমেদ শফি রুবেল পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৫৮ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান রানা পেয়েছেন ৫৭৪ ভোট এবং বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মেহেরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪৭২ ভোট।
বীরগঞ্জ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ৫৪৫ জন। এর মধ্যে ১২ হাজার ১২৭ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। এ হিসেবে কোনো মেয়র প্রার্থী এক হাজার ৫১৫ ভোটের কম পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। এই পৌরসভায় বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মোকারম হোসেন পেয়েছেন ৯৯৮ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী শাহ আলম পেয়েছেন ২৬৬ ভোট।
বিরামপুর পৌরসভায় ৩৬ হাজার ৭৪৮ জন ভোটারের মধ্যে ২৭ হাজার ৬১৫ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এই পৌরসভায় কোনো প্রার্থীকে তার জামানত টেকাতে হলে কমপক্ষে ৩ হাজার ৪৫১ ভোট পেতে হবে। তবে এখানে বিএনপির হুমায়ুন কবীর পেয়েছেন এক হাজার ৮০৪ ভোট আর বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আজাদুল ইসলাম পেয়েছেন এক হাজার ৪১৫ ভোট।
এই ৩ পৌরসভার মধ্যে বীরগঞ্জে নির্বাচিত হয়েছেন আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মোশাররফ হোসেন বাবুল, বিরামপুরে আ.লীগের প্রার্থী আক্কাস আলী এবং দিনাজপুর পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।
এমদাদুল হক মিলন/এমএইচআর/এমএস