তথ্যপ্রযুক্তি

২২০ টাকায় ল্যাপটপ না দিয়ে ৪৬ হাজার জরিমানা দিল অ্যামাজন

দামি পণ্যসামগ্রীতে প্রায়ই বিশাল অঙ্কের ছাড় দিয়ে থাকে ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলো। বিভিন্ন দিন উপলক্ষে মূল্যছাড় বা সেল দিয়ে থাকে তারা। ছাড়ের অংশ যত বড়ই হোক, একটি ল্যাপটপের দাম হিসেবে ২২০ টাকা অস্বাভাবিকই শোনায়। কিন্তু অফারে দেয়া এমনই একটি ল্যাপটপ ডেলিভারি দিতে না পারায় ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা গুণতে হয়েছে আন্তর্জাতিক ই-কমার্স ওয়েবসাইট অ্যামাজন ডটকমকে।

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪ সালে। তখন অ্যামাজনে এমনই একটা দারুণ অফার সামনে আসে ওড়িশার কলেজ শিক্ষার্থী সুপ্রিয় রঞ্জন মহাপাত্র। এমন অফারে যারপরনাই আনন্দিত হয়েছিলেন তিনি। কারণ, কলেজের প্রোজেক্ট শেষ করতে একটা ল্যাপটপের ভীষণ দরকার ছিল তার। ফলে, সবকিছু ভালো করে দেখে নিয়ে ল্যাপটপটি অর্ডার দেন তিনি।

কিন্তু বিপত্তিটা বাঁধে তারপরেই। অর্ডার কনফার্ম করার একটু পরেই তার কাছে ক্যানসেলেশনের মেইল আসে। তবে অর্ডারটি কেন বাতিল করা হলো, সে বিষয়ে যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ দেখায়নি অ্যামাজন।

জানা যায়, এরপর একাধিকবার অ্যামাজনের কাস্টমার কেয়ারে ফোন করেন ওই শিক্ষার্থী। কিন্তু সুরাহা হয়নি। কাস্টমার কেয়ার থেকে তাকে জানানো হয়েছিল, দামসংক্রান্ত গণ্ডগোলের জন্য এমন ঘটনা ঘটেছে। এ কথা শুনে আবার একটি ল্যাপটপের অর্ডার দেন তিনি। কিন্তু সেটাও তার কাছে ঠিক সময়ে পৌঁছায়নি। এসব কারণে কলেজের প্রোজেক্ট জমা দিতে দেরি হয়ে যায় ওই সুপ্রিয় রঞ্জনের।

Advertisement

এরপর তিনি এ বিষয়ে অভিযোগ করেন ওড়িশা স্টেট কনজিউমার ডিসপিউট রিড্রেসাল কমিশনে। প্রায় ৭ বছর সুদীর্ঘ লড়াইয়ের পর ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন তিনি। রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আর্থিক প্রতারণা এবং মানসিক হয়রানির জন্য অ্যামাজনকে ক্ষতিপূরণ গুণতে হবে ৪৬ হাজার টাকা। পাশাপাশি, মামলা চালানোর খরচ এবং বিক্রেতাকে অপদস্থ করার জন্য দিতে হবে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৬ হাজার টাকা (৫ হাজার ভারতীয় রুপি)।

তবে, সুপ্রিয়র অর্ডার করা প্রথম ল্যাপটপটি কোন ব্র্যান্ডের ছিল, তা জানা যায়নি। তবে সেটির আসল দাম ছিল ২৭ হাজার টাকার মতো (২৩ হাজার ৪৯৯ রুপি)। এই পণ্যটিই ২২০ টাকায় (১৯০ রুপি) বিক্রির অফার দিয়েছিল অ্যামাজন।

এসএস/জেআইএম

Advertisement