দেশজুড়ে

চাচাতো বোনের বাড়িতে ডাকাতি করতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার চুক্তি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আমির হোসেন (২৩) নামের অন্যতম আসামি।

রোববার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জাহিদ হোসেনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আমির হোসেন।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, সদর উপজেলার ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি দিদার আলম (২৫) তার চাচাতো বোনের বাড়িতে ডাকাতির পরিকল্পনা করতে তার সঙ্গে এক লাখ টাকায় চুক্তি করেন। তবে এই টাকা আমির হোসেনকে ডাকাতির পর দেয়ার কথা ছিল দিদারের।

এর আগে আমির হোসেনকে শনিবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে জেলা শহরের কলেজপাড়া থেকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ।

আমির হোসেন জেলার নবীনগর থানার শ্রীরামপুরের নসু মিয়ার ছেলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ইশতিয়াক আহমেদ জানান, গত ৯ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলিতে গ্যাসলাইন চেক করার কথা বলে দিন-দুপুরে প্রবাসী রফিকুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ২২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৫০ হাজার টাকা ও চার লাখ টাকা মূল্যের একটি ঘড়িসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় ডাকাত দল। ওই ঘটনায় জেলা শহরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় দিদার আলম নামের একজন জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। দিদার কাউতুলী এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে। ডাকাতি হওয়া প্রবাসীর স্ত্রী দিদারের চাচাতো বোন। সেই সুবাদে দিদার ওই বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন।’

‘দিদারকে ২৮ ডিসেম্বর ভোরে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলেনও তিনি আদালতে জবানবন্দি দেননি। তবে দিদারের দোকানের স্টাফ ১২ বছরের জাহিদুল দিদারের জড়িত থাকার কথা বলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এই শিশুকে দিয়ে দিদার ডাকাতির সময় প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাত দলকে ব্যাটারি সরবরাহ করেন।’

এই ঘটনায় শনিবার প্রযুক্তির সহায়তায় আমির হোসেন নামের আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জাহিদ হোসেনের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আমির। জবানবন্দিতে তিনি জানান, প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি করতে দিদার আলম তার সঙ্গে এক লাখ টাকার চুক্তি করেন। সেই টাকা ডাকাতির পর দেয়ার কথা ছিল। এছাড়া ডাকাতির মালামাল ভাগবাটোয়ারা হওয়ার কথা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাউতুলী স্টেডিয়ামের কোনায় দিদারসহ সাতজন মিলিত হন। দুপুর ২টার দিকে প্রবাসীর বাড়িতে প্রবেশ করে ছুড়ি-চাপাতি দিয়ে জিম্মি করে ডাকাতি করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘এই ডাকাতির ঘটনায় সাতজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ডাকাতির ঘটনায় প্রথমে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। ইতোমধ্যে আমির হোসেন, দিদার আলম ও আলমগীর নামের তিনজনকে সরাসরি সম্পৃত্ত থাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। মামলায় জড়িত আসামিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হবে।’

এসআর/জেআইএম