দেশজুড়ে

ত্রাণ আত্মসাৎ : আত্মসমর্পণ করে কারাগারে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান

ত্রাণের ৫৪৯ বস্তা চাল আত্মসাৎ মামলায় যশোরের মণিরামপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চুকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পাবলিক প্রসিকিউটর ইদ্রিস আলী জানান, রোববার মণিরামপুরের উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর কোর্ট পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠায়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল খুলনার মহেশ্বরপাশা থেকে যশোরের মণিরামপুরে পাঁচ ট্রাক সরকারি ত্রাণের চাল আসে। যার মধ্যে এক ট্রাক চাল গোডাউনে লোড না দিয়েই স্থানীয় ভাই ভাই রাইসমিলে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫৪৯ বস্তা চাল উদ্ধার এবং মিল মালিক ও ট্রাকচালককে আটক করে। ওই সময় চালের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় এসআই তপন কুমার সিংহ বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় আটক দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চুসহ কয়েকজনের নাম বলেন। তদন্ত শেষে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে যশোর আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, ৬৪৯ বস্তা চাল ত্রাণের। ওই চাল ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম কুমার চক্রবর্তী বাচ্চু কালোবাজারে বিক্রি করেন। যার মূল্য ছিল চার লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রথমে চার লাখ টাকা, পরে আরও ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন উত্তম।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মণিরামপুর উপজেলার জুড়ানপুর গ্রামের একাব্বর মোড়লের ছেলে কুদ্দুস, রবিন দাসের ছেলে জগদীশ দাস, তাহেরপুর গ্রামের মৃত সোলাইমান মোড়লের ছেলে শহিদুল ইসলাম, বিজয়রামপুর গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে চালকল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও খুলনা দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা গ্রামের রতন হাওলাদারের ছেলে ট্রাকচালক ফরিদ হাওলাদার।

মিলন রহমান/এএইচ/এমকেএইচ