দেশজুড়ে

পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণের প্রতিবাদে চিম্বুকের ম্রোদের লংমার্চ

 

বান্দরবানের নাইতং পাহাড়ে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণের প্রতিবাদে চিম্বুক পাহাড়ে বসবাসরত লংমার্চ করেছেন ম্রো আদিবাসীরা।

রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে চিম্বুকের রামরি পাড়া থেকে লংমার্চ শুরু হয়। প্রায় ৩০ কিলোমিটার হেঁটে আসার পর শহরের ঐতিহ্যবাহী বোমাং রাজার মাঠে সমাবেশ করেন ম্রোরা। এতে প্রায় দেড়হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেন।

চিম্বুক পাহাড়ে বসবাসরত ম্রোদের দাবি, যেখানে (নাইতং পাহাড়ে) পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ করা হচ্ছে সেটি তাদের পূর্ব পুরুষদের চাষের জমি। এলাকার মানুষদের অন্ধকারে রেখে অবৈধভাবে পথ অনুসরণ করে ম্রোদের ভোগদখলীয় জায়গা জোরপূর্বক নেয়া হয়েছে।

সমাবেশে লিখিত বক্তব্যে মেন ইয়াং ম্রো বলেন, নাইতং পাহাড়ে সিকদার গ্রুপ ‘ম্যারিয়ট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস’ নামে পাঁচ তারকা হোটেল এবং বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে আমাদের আনুমানিক এক হাজার একর ভোগদখলীয় ও চাষের ভূমি বেদখল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমাদের ছয়টি পাড়া সরাসরি উচ্ছেদের মুখে পড়বে। কয়েক হাজার ম্রোদের ঐতিহ্যবাহী জীবিকা, চাষের ভূমি, ফলজ বাগান, পবিত্র জায়গা, শ্মশান ঘাট ও পানির উৎস ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া আমাদের সংরক্ষিত পাড়াবন ও জীব বৈচিত্র্য অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে।

এ জন্য পাঁচটি দাবি দাওয়া উত্থাপন করেছে ম্রোরা। সেগুলো হলো- চিম্বুকের নাইতং পাহাড়ে পাঁচ তারকা হোটেল ও বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প বাতিল করতে হবে। অবৈধভাবে ভূমি দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী স্থানীয় পাড়াবাসী, জনপ্রতিনিধি, ছাত্র নেতাকে হয়রানি ও হুমকি-ধমকি দেয়া বন্ধ করতে হবে। চিম্বুকের ম্রোদের বংশ পরম্পরায় ভোগদখলীয় ভূমিতে কোনো ধরনের পর্যটন বা বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। স্থানীয় মানুষের ভূমি দখল করে নীলগিরি পর্যটনকেন্দ্র সম্প্রসারণের উদ্যোগ কোনোভাবেই গ্রহণ করা যাবে না। যে উদ্দেশ্যেই চিম্বুক পাহাড়ের ভূমি ব্যবহার করা হোক না কেন তা স্থানীয় কারবারি (পাড়া প্রধান, হেডম্যান- মৌজা প্রধান), জনপ্রতিনিধি ছাড়াও চিম্বুক পাহাড়ের সব পাড়াবাসীকে অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনা করতে হবে।

সৈকত দাশ/এসজে/এমকেএইচ