দেশজুড়ে

সাহস দেখালেন না কেউ, প্রথম টিকা নিলেন গ্রাম পুলিশ সদস্য

করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পাওয়ার আশায় অনলাইনে টিকা গ্রহণের আবেদন করেন ২৮ ব্যক্তি। এর মধ্যে বেসির ভাগই ডাক্তার ও নার্স। রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভয়ে কেউ টিকা গ্রহণ করতে রাজি হলেন না। পরে সাহস নিয়ে এগিয়ে এলেন এক গ্রাম পুলিশ সদস্য।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রমের সাথে জড়িতদের সবার আগে টিকা নিতে হবে। কিন্তু তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনো ডাক্তার বা নার্স ভ্যাকসিন নিতে রাজি হননি। পরে জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ আমিনুর শেখের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। ভ্যাকসিন নেয়া আমিনুর শেখ উপজেলার আটুলিয়া গ্রামের মৃত সিরাজ শেখের ছেলে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজিব সরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তারিফ-উল-হাসান। এসময় তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, ভাইস চেয়ারম্যান সরদার মশিয়ার মহমান, মুর্শিদা পারভিন পাপড়ি ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী রাসেল উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ভ্যাকসিন গ্রহনের জন্য অনলাইনে আবেদন করা তালা উপজেলার ১৮ ব্যক্তির কেউ ভ্যাকসিন নিতে দেখা যায়নি। এই তালিকায় তালা হাসপাতালের ডাক্তার- নার্স থাকলেও তাদের কেউ ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে আগ্রহী হননি। গ্রাম পুলিশ আমিনুরকে সামনে পেয়ে তাকে টিকা দিতে অনুরোধ করেন তারা।

গ্রাম পুলিশ সদস্য আমিনুর বলেন, হাসপাতালের কেউ টিকা নিতে রাজি না হওয়ায় আমি সাহস করে টিকা নিয়েছি।

ডা. রাজিব সরদার বলেন, তালায় ভ্যাকসিন গ্রহনের জন্য ১৮ব্যক্তি আবেদন করেন। একজনকে প্রয়োগ করে কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে সকলে সঠিক ভাবে আবেদন না করায় আবেদন কম রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার বলেন, হাসপাতালের ডাক্তার বা নার্সরা টিকা না নেয়া দুঃখজনক। সবার আগে তাদের টিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে ভীতি দূর করতে হবে। তা না হলে সরকারের এ মহতি উদ্দ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।

আরএইচ/এমকেএইচ