পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানা এলাকার যুবক রায়হানকে (২৬) মারধর এবং সে দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার পর নিখোঁজ যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার যুবকের নাম ইমাম সিকদার। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে মহিপুর থানার আলীপুর সুলিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। দুপুরে পটুয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মইনুল হাসান জানান, নিখোঁজ যুবক এবং অভিযুক্ত আসামি সবাই একটি অপরাধ চক্রে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ইমাম সিকদারের বিরুদ্ধে মহিপুর থানায় সাতটি এবং ভিকটিম রায়হানের বিরুদ্ধে মাদক, চুরিসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, রায়হান নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। তাকে গ্রেফতারের পর জানা যায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি রায়হানের সঙ্গে মোটরসাইকেলে অভিযুক্ত ইমাম সিকদার এবং মাহিম আলিপুর থেকে ফাসিপাড়া গ্রামের রাখাইন পল্লীতে যান। সেখানে তারা চোলাই মদ পান করেন। অভিযুক্ত ইমাম রায়হানের কাছে ইয়াবা বিক্রির ৩০ হাজার টাকা পেতেন। সে টাকা না দেয়ায় রায়হানকে নির্যাতন করে ভিডিও ধারণ করা হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। অভিযুক্তরা জানান, ওই দিন বিকেলেই রায়হানকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়।
এ ঘটনায় আত্মগোপনে থাকা রায়হানের বাবা মো. কাশেম হাওলাদার বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে ৭ ফেব্রুয়ারি মহিপুর থানায় একটি মামলা করেন।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিন মো. ইউসুফ বেপারী এবং ৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম কুয়াকাটা থেকে ৩ নম্বর আসামি ইলিয়াস খানকে (২৬) গ্রেফতার করা হয়।
তাদের দেয়া তথ্যমতে ভিকটিম রায়হানকে মারধরের এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে ১০ লিটার চোলাই মদ এবং বিভিন্ন ড্রামে সংরক্ষিত ৫৭৫ লিটার মদ তৈরির উপকরণ (পচুই) উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ভিন্ন একটি মামলা করার কথাও জানান এসপি।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) শেখ বেলাল, মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলামসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। গ্রেফতার রায়হানের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এসআর/এমএস