সমাজ উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশিষ্ট নারীনেত্রী ও সমাজসেবী, সাপ্তাহিক গতিপথ সম্পাদক, টিভি সাংবাদিকতায় সালমা-সোবহান ফেলো অ্যাডভোকেট তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত।
বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তাকে সম্মাননা ও সনদ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কাজী রওশন আক্তার, সাবেক এমপি চেমন আরা তৈয়ব ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন।
‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ২০১৯ সালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তৃণমূলের সফল নারীদের সম্মাননা জানানোর পদক্ষেপ হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার ৫৪ জনের মধ্যে পাঁচ ক্যাটাগরিতে পাঁচজনকে বিভাগের সেরা জয়িতা নির্বাচন করা হয়। এর মধ্যে ‘সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী’ ক্যাটাগরিতে বিচারকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তে নিশাত শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হন। এর আগে তিনি একই ক্যাটাগরিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আইন পেশায় নিযুক্ত নিশাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অবহেলিত নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। পারিবারিক কলহে অসহায় নারীদের আইনি সহায়তা প্রদান, দরিদ্র নারীদের ভাগ্য পরিবর্তনে তার ভূমিকা অসামান্য।
২০১৪ সালে সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর সদরের সুহলপুর ইউনিয়নের ঋষি সম্প্রদায়ের অবহেলিত নারীদের জীবন বদলে দিতে তার গৃহীত পদক্ষেপ অনেক প্রশংসিত হয়। সেখানে স্থায়ী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে ঋষিপাড়ার ৩৭৫ পরিবার থেকে একজন করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। তাদের মধ্যে নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ৫০ জনেরও বেশি নারী নিজের জীবন বদলাতে সক্ষম হন। এছাড়া সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে এক হাজারেরও বেশি নারী প্রশিক্ষিত হয়েছেন তাসলিমা সুলতানার উদ্যোগে।
জাতিসংঘের ইউএন উইম্যান এবং ইউএন সিডিএফ প্রতিনিধিদল ছাড়াও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিনিধি দল তার এসব কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। নারী উন্নয়ন ফোরামের প্রকল্প ‘অপারিজতা’র জন্যে বিভাগীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।
প্রতিবন্ধীদের সেবায়ও দীর্ঘসময় ধরে নিয়োজিত রয়েছেন এই নারীনেত্রী। সুইড বাংলাদেশ পরিচালিত আসমাতুন্নেছা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ১৫ বছর প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বর্তমানে সুইড বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাধারণ সম্পাদক তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত। এছাড়া তিনি ড্রিম ফর ডিসঅ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন, ড্রিম ফর ডিসঅ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন হুইল চেয়ার ক্রিকেট টিম, ড্রিম ফর ডিসঅ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট টিমের উপদেষ্টা।
অ্যাডভোকেট নিশাত জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৮৯ সালে ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারীদের ক্রীড়া বিকাশে তার বিশেষ অবদান রয়েছে। তিনি নারী সাংবাদিকতায় ফেলোশিপপ্রাপ্ত। ‘সালমা সোবহান ফেলোশিপ (ই-মিডিয়া) ব্যাচ-২০০৭ অর্জন করেন।
নারী উদ্যোক্তা হিসেবে গত বছরের ৮ মার্চ জাতীয়ভাবে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড প্রদত্ত উইম্যান অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। নানা ক্ষেত্রে সাফল্যজনক কর্মকাণ্ডের জন্যে নিশাত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেন।
এসআর/জিকেএস