দেশজুড়ে

স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী জেলে : দুই সন্তানের পাশে পুলিশ

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে স্ত্রী ও শ্বাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ঘাতক লোকমান হোসেন (৩৫)। মায়ের মৃত্যু ও বাবার কারাবাসে অসহায় হয়ে পড়েছে লোকমান-ফারজানা দম্পতির দুই শিশু সন্তান রিমি (৫) ও নয়মাস বয়সী আরাফাত।

এতিম শিশু দুটির জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সোহান সরকারের নেতৃত্বে খাদ্যসামগ্রী, পোশাক, জুতাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পৌঁছে দেয়া হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহান সরকার বলেন, ‘পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদের নির্দেশনক্রমে জেলা পুলিশের পক্ষ হতে অসহায় শিশু দুটির জন্য উপহারসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দিয়ে এসেছি। আগামী দিনেও শিশু দুটির পাশে থাকবে পুলিশ। শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল বিষয়ে পুলিশ তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে।’

খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়ার সময় অন্যান্যের মধ্যে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আজিজুল বারী নয়ন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, মোকাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক মুন্সি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক কলহের জেরে লোকমান তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার (২৫) ও শাশুড়ি বানু বিবিকে (৫০) ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে বাড়িতেই বসে ছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এরপর অসহায় শিশু দুটির ঠাঁই হয়েছে তার চাচির কোলে।

গ্রেফতারের আগে ঘাতক লোকমান জানায়, তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার পরকীয়ার আসক্ত ছিলেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য সদর উপজেলার কালীরবাজার ইউনিয়নের বল্লবপুর গ্রাম থেকে সকালে শাশুড়ি বানু বিবিকে খবর দিয়ে তার বাড়ি নিয়ে আসেন। মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি তার শাশুড়ি সমাধান না করে উল্টো তাকে গালমন্দ করা হয়। এক পর্যায়ে সে ক্ষুব্ধ হয়ে ছুরিকাঘাত করে শাশুড়ি ও তার স্ত্রীকে হত্যা করে।’

মো. কামাল উদ্দিন/এএএইচ/জেআইএম