দেশজুড়ে

রাজবাড়ী পৌরসভায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

আসছে ১৪ ফেব্রুয়ারি (রোববার) ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাজবাড়ী সদর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ত্রিমুখী অর্থাৎ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ভোটের লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ নির্বাচনে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে এখন প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজবাড়ী সদর পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকরা।

প্রতিদিন ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে গণসংযোগ, মিছিল, সমাবেশ, পথসভা, মাইকে প্রচার প্রচারণা। তবে ইভিএম নিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এজন্য প্রার্থী ও ভোটারদের দাবি, ইভিএমের ব্যাপক প্রচারণা প্রয়োজন।

এদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতাদেরও প্রচার চালাতে দেখা গেলেও বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে জেলা বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকেই দেখা যাচ্ছে না প্রচারণায়। তাছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পোস্টার ও নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে।

এ নির্বাচনে রাজবাড়ী সদর পৌরসভায় চারজন মেয়র, ১২ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও ৪৯ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ পৌরসভায় মোট ভোটার ৪৫ হাজার ২০ জন এবং ভোটকেন্দ্র ১৮টি।

মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী (নৌকা), বিএনপি মনোনীত জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি মনোনীত পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক কেএ রাজ্জাক মেরিন (লাঙল) এবং বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন তিতু (নারকেল গাছ) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় পার্টি মনোনীত কেএ রাজ্জাক মেরিন বলেন, তিনি এরশাদ সেনার আদর্শ সৈনিক। রাজবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হলে মাদক-সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সবাইকে সহযোগিতা করবেন।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর হোসেন তিতু বলেন, তার প্রতিপক্ষ নীল নকশার নির্বাচন করার পায়তারা করছে। তারপরও তারা সফল হবেন না। জনগণ ভোটের মাধ্যমে সে প্রমাণ দেবে। কে বা কারা তার নির্বাচনী পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে ও অফিস ভেঙে দিচ্ছে। সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে ১৪ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদী।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া বলেন, আল্লাহর রহমতে পৌরবাসী তাকে নির্বাচিত করলে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, শিক্ষা সম্প্রসারণ, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রাজবাড়ী পৌরসভাকে একটি আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলবেন। এছাড়া তিনি অতীতেও একবার মেয়র ছিলেন, সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পৌরসভার উন্নয়ন করবেন।

আওয়ামী লীগ মনোনিত মহম্মদ আলী চৌধুরী বলেন, উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া, এটা সব সময় চলে। তিনি মেয়র থাকাকালীন সময়ে অনেক ড্রেন নির্মাণ করেছেন। তারপরও জলাবদ্ধতা পৌর এলাকার প্রধান সমস্যা। উন্নয়ন কাজের যেসব অংশ বাকি আছে, পুনরায় তিনি নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জলাবদ্ধতা দূরীকরণসহ সব উন্নয়নমূলক কাজ করবেন। আশা করছেন বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি জয়ী হবেন।

রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী বলেন, নৌকার বিপক্ষে কারও যাওয়ার সুযোগ নেই। বিগত দিনে আমরা জয়লাভ করেছি, ১৪ তারিখেও সম্মিলিতভাবে কাজ করে নৌকাকে বিজয়ী করবো। নৌকা উন্নয়নের প্রতীক, এ নৌকা বঙ্গবন্ধুর ও শেখ হাসিনার নৌকা। এ নৌকা দিয়ে আমরা দেশ পেয়েছি। নৌকার বিজয় না হলে, রাজবাড়ী পৌরসভার কোনো উন্নয়ন হবে না। তাই সংগঠনের বাইরে কারও যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

উল্লেখ্য, একই দিন অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভাতেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে গোয়ালন্দ পৌরসভায় মেয়র পদে তিনজন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১১ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পৌরসভায় মোট ভোটার ১৬ হাজার ৫৪৮ জন এবং ভোটকেন্দ্র নয়টি।

মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনিত উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মণ্ডল (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ মো. নজরুল ইসলাম (জগ) ও জাতীয় পার্টি মনোনীত জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম-সম্পাদক সাংবাদিক হেলাল মাহমুদ (লাঙল) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রুবেলুর রহমান/এমআরআর/জেআইএম