বাগেরহাটের মোংলায় হরিণের চারটি পা, আধা বস্তা ফাঁদ, দুটি ছুরি ও একটি নৌকাসহ দুই চোরা শিকারীকে আটক করেছে বনবিভাগ।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে বন ও বন্যপ্রাণী নিধন আইনে মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।
আটককৃতরা হলেন- উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া গ্রামের ইসমাইল মোল্লার ছেলে জাহাঙ্গীর মোল্লা (৪০) ও আবজালের ছেলে ফজলু (৫০)।
পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. এনামুল হক জানান, বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোংলার বৈদ্যমারী ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন ইসহাকের চিলা এলাকায় অভিযান চালায় বনপ্রহরীরা। ওই এলাকায় আগে থেকে অবস্থানকৃত চোরা শিকারিরা অভিযানকারীদের উপস্থিতি টের পেয়ে জবাইকৃত হরিণের মাংস নদীতে ফেলে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে দুই চোরা শিকারীকে আটক করেন বনবিভাগের সদস্যরা।
তিনি আরও জানান, তাদের কাছ থেকে জবাইকৃত হরিণের চারটি পা, আধা বস্তা হরিণ শিকারের ফাঁদ, দুটি ছুরি, রক্ত মাখা পলিথিন ও একটি নৌকা জব্দ করা হয়। আটককৃতদের রাতে চাঁদপাই ফরেস্ট স্টেশনে নেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বন ও বন্যপ্রাণী নিধন আইনে মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ জানুয়ারি বাগেরহাটের শরণখোলা থেকে বাঘের চামড়াসহ এক পাচারকারীকে আটক করে র্যাব-৮। ২২ জানুয়ারি আবারও শরণখোলা থেকে ১৯টি হরিণে চামড়াসহ দুই পাচারকারীকে আটক করে ডিবি পুলিশ। ২৫ জানুয়ারি খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী খেয়াঘাট এলাকা থেকে ১১ কেজি হরিণে মাংসসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ। ৩১ জানুয়ারি বাগেরহাটের মোংলার দিগরাজ এলাকা থেকে ৪৭ কেজি হরিণের মাংস তিনজনকে কোস্ট গার্ড এবং ২ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাটের রামপাল থেকে ৪৫ কেজি হরিণে মাংসসহ পাচারকারীদের আটক করে ডিবি পুলিশ।
মো. এরশাদ হোসেন রনি/এসজে