টাঙ্গাইলের সখীপুরে এমআইএস তথ্যে ভুলের কারণে সম্মানী ভাতা তুলতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তিন শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা। এমআইএস (ম্যানেজম্যান্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) করার সময় তথ্য দেয়ার সময় ব্যাংকের শাখার নাম সখীপুরের স্থলে বাগেরহাট হওয়ায় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্র জানায়, এ উপজেলায় ৯৯৮ জন তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা থাকলেও এমআইএসে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন ৯৮৩ জন। এরমধ্যে জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন ৬২০ জন। সরকার এখন থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানীভাতা ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে (অ্যাকাউন্টে) পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।
গত সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানীভাতা জিটুপি (গভম্যান্ট টু পারসন) প্রক্রিয়ায় সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের উপকারভোগীকে জানুয়ারি মাসের ভাতা বাবদ ১৮২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরাসরি ভাতা ভোগীর ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়।
উপজেলার গোহাইলবাড়ী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া উল্লাহ, বাঘেরবাড়ী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম, বহুরিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ময়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা তিনদিন ধরে ভাতার টাকা তোলার জন্য সখীপুর সোনালী ব্যাংকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও টাকা পেয়ে নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসি। কবে ভাতা তুলতে পারব তাও কেউ বলতে পারছেন না।’
সখীপুর পৌর শহরের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মনির উদ্দিন মন্টু বলেন, ‘শুক্র, শনি ও রোববার টানা তিনদিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। আগামী সোমবারেও ভাতা পাওয়া নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।’
সখীপুর সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা (পিও) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তিন শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধার অ্যাকাউন্টে এখনো টাকা পৌঁছায়নি। পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এমআইএস করার সময় ভুলবশত ব্যাংকের শাখা লেখার অপশনে সখীপুর লেখা হলেও অটোমেটিক বাগেরহাট হয়ে গেছে। ফলে তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা আসেনি।’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ বলেন, ‘এমআইএস করার সময় তথ্য পূরণে আমাদের কোনো ভুল হয়নি। তবে শাখার অপশনে অটোমেটিক সখীপুরের স্থলে বাগেরহাট হয়েছে। বিষয়টি সংশোধনের জন্য পাঠানো হয়েছে। আশা করি অতি দ্রুত বিষয়টি সমাধান হবে।’
আরিফ উর রহমান টগর/আরএইচ/এএসএম