শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ বা শহীদ মিনার নির্মাণের কথা থাকলেও রাজবাড়ীর ৭৩৮ (প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৭৩টিতেই নেই শহীদ মিনার। ফলে মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসের ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তাই জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি সচেতন মহলের।
জেলায় ৪৮২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে মাত্র ৭১ বিদ্যালয়ে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক মিলে ২৫৬টির মধ্যে ৯৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে।
এদিকে জেলা শহরের শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে তৈরি করা হয়েছে রাজবাড়ী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। যেখানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষাসহ বিভিন্ন দিবসে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সরকারি-বেসরকারি, সাংস্কৃতিক, সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, পড়ালেখার মাধ্যমে শহীদ মিনার সম্পর্কে যতটা জানা যায়, তার থেকে বেশি জানা যায় বাস্তবে দেখে। এতে শহীদদের প্রতি ভালবাসার বর্হিপ্রকাশ ঘটবে। এজন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা জরুরি এবং সরকারের এদিকে নজর দেয়া উচিত।
কবি নেহাল আহম্মেদ জানান, বিভিন্নস্থানে ভাষা শহীদদের স্বরণে শহীদ মিনার স্থাপিত হয়েছে। কিন্তু রাজবাড়ীর অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই।
শের-এ-বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিমসহ কয়েকজন শিক্ষক বলেন, অনেক বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী শহীদ মিনার থাকায় সেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। তারপরও ইতিহাস জানতে প্রতিটি স্কুলে শহীদ মিনার থাকা দরকার।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে ইয়াসমিন করিম জানান, জেলায় ৪৮২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শহীদ মিনার নেই ৪১১টিতে। ডিজি অফিস অভিন্ন নকশার মাধ্যমে শহীদ মিনারগুলো করবে বলে জানিয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিসার সামছুন্নাহার চৌধুরী জানান, সম্প্রতি শহীদ মিনার নির্মাণের কোনো নির্দেশনা পাননি। মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা আছে চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করার। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সেখানকার শিক্ষার্থীরা আশেপাশের নিকটবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে যাবে। করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সর্বোচ্চ পাঁচজন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেশি মানুষও উপস্থিত হতে পারবে।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মাহাবুর রহমান বলেন, জেলায় ১৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে। এবারের ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারের নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনসহ অন্যান্য যারা বরাদ্দ দিতে পারে, সেক্ষেত্রে তাদের এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মানসম্পন্ন শহীদ মিনার করতে উদ্বুদ্ধ করছেন। শহীদ মিনার নির্মাণের বরাদ্দ দেয় উপজেলা পরিষদ। আবার অনেক ক্ষেত্রে জেলা পরিষদও বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দ পাওয়া গেলে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।
রুবেলুর রহমান/এসএমএম/জিকেএস