গাজীপুরের কালীগঞ্জে এবারের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস পালিত হলো নতুন শহীদ মিনারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শিবলী সাদিকের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নির্মিত দেশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে তৈরি এ শহীদ মিনারটি এখন থেকে স্থানীয়দের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ (আরআরএন) পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের পূর্বকোণে ছিল একটি শহীদ মিনার। যা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু স্থানীয় বাজার ও হোটেল ব্যবসায়ীরা শহীদ মিনারের পাদদেশে ময়লা ফেলে ভাগাড়ে পরিণত করেন। পরে ইউএনওর নেতৃত্বে শহীদ মিনারটি ময়লার ভাগাড় থেকে মুক্ত করেন এবং আরআরএন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য উন্মুক্ত করেন।
এদিকে, ইউএনও মো. শিবলী সাদিকের ব্যক্তিগত আগ্রহে ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় এ উপজেলায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নারী বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি। শহীদ মিনারটি নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা।
গত বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি। এসময় গাজীপুর জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশ, ইউএনও মো. শিবলী সাদিক, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম মিজানুল হক প্রমুখ।
ইউএনও মো. শিবলী সাদিক বলেন, ‘আমি যোগদানের পর দেখি স্থানীয়ভাবে ভালো কোনো শহীদ মিনার নেই। যেটি কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হতো তার অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। অনেক ইতিহাসের সাক্ষী কালীগঞ্জে ভালো কোনো শহীদ মিনার থাকবে না, বিষয়টি আমাকে কষ্ট দেয়। এজন্য শহীদ মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা করি। অবশেষে স্থানীয়দের সহযোগিতায় এর নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়।’
তিনি বলেন, আমি হয়তো থাকব না। কিন্তু বাস্তবায়িত এই শহীদ মিনার দেখলেই আমার কথা মনে পড়বে স্থানীয়দের।
আব্দুর রহমান আরমান/এসআর/এএসএম