ফেনীতে পৃথক মাদক মামলায় তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও একজনকে এক বছরের প্রবিশন সুবিধা দিয়েছে আদালত। এছাড়া আদালতে দাড়িয়ে মিথ্যা বলায় এক সাক্ষীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ফেনীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ রায়গুলো ঘোষণা করা হয়।
জানা গেছে, ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে ৯ ফেব্রুয়ারি দাগনভূঞা উপজেলার একটি মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্য দেন সিন্দুরপুর ইউনিয়নের হাজী রুহুল আমিনের ছেলে রমজান আলী স্বপন (২৭)। মামলার বাদীপক্ষে আইনজীবীর জেরায় ও মামলার অন্যান্য সাক্ষীদের সাক্ষ্যে রমজান আলী স্বপন মিথ্যা বলার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, আদালতে শপথ করে আসামিকে মামলার দায় থেকে বাঁচানোর জন্য মিথ্যা সাক্ষী দেয়ায় ও আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করায় সাক্ষী রমজান আলী স্বপনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা রুজুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
একই আদালতে বুধবার পৃথক মাদক মামলায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. করিমকে এক বছর তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া অন্য একটি মাদক মামলায় ফুলগাজী উপজেলার গাঁজা ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান শ্যামল ও সবুজ নামের দুজনকে ৬ মাস সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।
এদিকে, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসানের আদালতের ব্যাঞ্চ সহকারী মো. ইউনুছ শরীফ জানান, ২০২০ সালের ২৪ আগস্ট সাতপিস ইয়াবার মামলায় জাহিদুল ইসলাম সম্রাট (২৪) নামের এক শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য কারাগারে না পাঠিয়ে প্রবিশন সুবিধা দিয়েছেন আদালত। প্রবিশন প্রাপ্ত সম্রাট সম্প্রতি সময়ে ফেনী সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ব্যাচেলর ডিগ্রিতে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই আদালত আসামিকে পড়ালেখা চালিয়ে সুনাগরিক হয়ে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করার শর্তসহ পাঁচটি শর্তে প্রবিশন সুবিধা প্রদান করেন। আসামি সম্রাট ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকার সাইফুল আলম সেলিমের ছেলে।
নুর উল্লাহ কায়সার/এসজে/এমএস