ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা মো. ফিরোজ খানের বিরুদ্ধে রাতারাতি আওয়ামী লীগ নেতা সেজে প্রতারণার অভিযোগে জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ। শুধু তাই নয়, স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা জেলার ৪ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে তার নামে একটি মামলা ঠুঁকে দিয়েছেন। শনিবার (২৭ মার্চ) তিনি মামলাটি দায়ের করেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি নেতা ফিরোজ খান আওয়ামী লীগের পদ ব্যবহার করে এলাকায় পোস্টারিং করেন এবং ফেস্টুন-বিলবোর্ড টানান। বিষয়টি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নজরে এলে তোলপাড় শুরু হয়। ভুয়া পদ ব্যবহার করে প্রচারণা করার বিষয়টি তারা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানান।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেয়া হয়েছে নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বরাবরে। সেখানে ফিরোজ খানের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
এদিকে, বিএনপি নেতা ফিরোজ খান আওয়ামী লীগের পদ ব্যবহার করায় ফরিদপুরের ৪ নম্বর আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য মো. বাবুল আক্তার। মামলার আর্জিতে তিনি ফিরোজ খানের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের পদ ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগ আনেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ফিরোজ খান এলাকায় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। তিনি কয়েকবার বিএনপির সমর্থন নিয়ে তালমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। হঠাৎ করেই তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড, ফেস্টুন টানিয়েছেন। এটা করে তিনি প্রতারণা করেছেন।
তাদের অভিযোগ, ২০১৩ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের যে কমিটি গঠন করা হয়, সে কমিটিতে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন নির্বাচিত হন। তারা হলেন-মো. জামাল হোসেন মিয়া, মো. রওশন আলী ও মো. লিয়াকত আলী। এরপর সম্মেলন না হওয়ায় সেই কমিটিই বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে, ২০১৫ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির যে কমিটি অনুমোদন দেন, সেই কমিটির ৪ নম্বর উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ফিরোজ খান।
নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্যাডে গণমাধ্যমের কর্মীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির এই নেতাকে এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের গডফাদার, অর্ধডজন মামলার আসামি বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফিরোজ খান সম্প্রতি নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভুয়া যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদ ব্যবহার করে পোস্টারিং এবং ব্যানার-বিলবোর্ড লাগিয়ে প্রতারণা করছেন। এলাকায় নিরীহ জনগণ, ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
গত উপজেলা নিবাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচারণায় অংশ নেন ফিরোজ খান। তালমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের কাছে যে ডকুমেন্ট রয়েছে তাতে ফিরোজ খান স্থানীয় বিএনপির উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন। তার বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দেয়া হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের চিঠি পাওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে ফিরোজ খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
এসআর/এএসএম