টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে খুন হওয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল কর্মকর্তা খন্দকার রেদওয়ানা ইসলামের ১৬ দিনের শিশু কন্যাকে বৈধ অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দিতে পাঁচ সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা ও জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সদস্য মো. মোতালের হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, উপকমিটির কাছে শিশুটির মামা খন্দকার আরশাদুল আবিদ তাকে পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তবে শিশুরটির বাবার পরিবার থেকে তাকে নেওয়ার জন্য এখনো কেউ আবেদন করেনি।
মোতালের হোসেন আরও জানান, উপকমিটি ৫ এপ্রিল একটি সভা করেছে। সভার সিদ্ধান্তে এই সপ্তাহের মধ্যে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভাপতি জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির কাছে সুপারিশ জানাবে। ওই সুপারিশপত্র পাওয়ার পর জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভায় বৈধ অভিভাবকের কাছে শিশুকন্যাকে বুঝিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
এদিকে, কালচারাল কর্মকর্তা খন্দকার রেদওয়ানা ইসলাম খুন হওয়ার পর থেকে তার স্বামী দেলোয়ার হোসেন মিজান ও তার পরিবার পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না।
গত সোমবার (২২ মার্চ) সকালে প্রসবব্যথা নিয়ে রেদওয়ানা ইসলাম কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন সকাল ১০টায় সিজার অপারেশনের মাধ্যমে মেয়ে শিশুর জন্ম দেন তিনি। শুক্রবার (২৬ মার্চ) হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। তবে মেয়ে অসুস্থ থাকায় তিনি ছুটি না নিয়ে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ১১ নম্বর কেবিনে থেকে যান।
শনিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে হাসপাতালে স্বামী আসায় শিশুটিকে মায়ের বুকের দুধ খাইয়ে রেদওয়ানার মামি খোদেজা ও মর্জিনা তিনতলায় নিয়ে যান। সাড়ে ৩টার দিকে বাচ্চাকে পুনরায় দুধ খাওয়ানের জন্য খোদেজা বেগম ফিরে এসে কেবিনের দরজার তালা আটকানো দেখেন। ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কেউ দরজা না খোলায় কর্তব্যরত সেবিকাকে তিনি বিষয়টি জানান। পরে অতিরিক্ত চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে মরদেহ দেখতে পান।
শিশুটি অসুস্থ থাকায় শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রাখা হয়। শিশুটি সুস্থ হওয়ায় গত শনিবার হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে ছুটি দেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকের কাছে শিশুটিকে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য প্রশাসনকে অবহিত করেন। শিশুটিকে বৈধ অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দিতে গত বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খানকে আহ্বায়ক ও টাঙ্গাইল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো. শাহ আলমকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের উপকমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এস আকবর আলী খান ও জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মিনু আনাহলি।
কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম (অপারেশন) অনিমেষ ভৌমিক জানান, ‘শিশুটির অবস্থা ভালো রয়েছে। গত শনিবার ছুটি হলেও হাসপাতালের নার্সদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।’
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভাপতি ড. মো. আতাউল গনি এবং উপকমিটির আহ্বায়ক সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খানের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
এস এম এরশাদ/এসজে/এএসএম