দেশজুড়ে

শিমুলিয়ায় আজও ঘরমুখী মানুষের ঢল

সর্বাত্মক লকডাউনকে কেন্দ্র করে আজও দেশের দক্ষিণবঙ্গগামী ঘরমুখী মানুষের উপচেপড়া চাপ পড়েছে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে। সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট-বড় যানবাহনে করে শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় উপস্থিত হচ্ছে মানুষ। ঘাটে আসা অধিকাংশ যানবাহনই ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি।

গণপরিবহন বন্ধ থাকার নির্দেশনায় পদ্মা নদীর শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীরা নদী পারাপার করছে ফেরিযোগে। তবে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু স্পিডবোট চলাচলের পাশাপাশি অনেক যাত্রীই আবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারযোগে পাড়ি দিচ্ছে পদ্মা।

এদিকে ঘাট এলাকায় পাচঁ শতাধিক ব্যক্তিগত ও দুই শতাধিক পণ্যবাহী যানবাহন অবস্থান করছে। এসব যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে নৌরুটে বর্তমানে ১৪টি ফেরি সচল রয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ। তবে অত্যাধিক মানুষের চাপে নৌরুটের যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে হিমশিম খেতে হচ্ছে ফেরি কর্তৃপক্ষকে।

সরজমিনে দেখা যায়, ঘাটজুড়ে যাত্রী আর যানবাহনের ঢল। ফেরি পল্টুনে ভিড়লেই হুড়হুড়ি করে উঠে পড়ছে যাত্রীরা। গৃহের সকল সামগ্রী নিয়েও গ্রামে ছুটছেন মানুষ।

তবে ফেরিতে ও শিমলিয়া ঘাটে আসা যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে একইবারে উদাসীন। যাত্রীরা জানান, ১৪ তারিখ সর্বাত্মক লকডাউনকে কেন্দ্র করেই বাড়ি ফিরছেন তারা।

মো. মনির হোসেন নামের এক যাত্রী জানান, ঢাকার জুরাইন পোস্তগোলা এলাকায় অটোরিকশা চালান তিনি। লকডাউনে সব বন্ধ হবে। তাই স্ত্রী ও ৩ ছেলে-মেয়ে সবাইকে নিয়ে দেশের বাড়ি শরীয়তপুরে একবারের জন্য চলে যাচ্ছেন। বারবার লকডাউনে ঢাকায় বসবাসের সামর্থ্য নেই তাদের।

বরিশালগামী এক যাত্রী জসিম উদ্দিন বলেন, ঢাকায় একটি হলুদের কারখানায় কাজ করতাম। করোনায় কাজ নাই। তাই দেশে যাচ্ছি। পরিস্থিতি ভালো হলে আবার আসব।

আরেক নারী যাত্রী আকলিমা বেগম বলেন, সরকার লকডাউন দিয়ে আমাদেরতো আর বসে খাওয়াবে না। না খেয়ে মরার চাইতে দেশে গিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও কিছুদিন থেকে বাঁচতে চাই।

ফেরি এনায়েতপুরীর কোয়ার্টার মাস্টার মনির হোসেন বলেন, লকডাউনের কথা শুনেই যাত্রীরা বাড়ি ফিরছে। যাত্রীদের চাপে বেশি গাড়ি নেয়া যাচ্ছে না।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যাবস্থাপক প্রফুল্ল চৌহান জানান, অত্যাধিক মানুষের চাপ পড়েছে। লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরিতে যাত্রীদের বেশি চাপ রয়েছে। বর্তমানে ১৪টি ফেরি চলছে।

মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. হিলাল জানান, ঘাট এলাকা ও আশপাশ মিলিয়ে ৭শ’র উপরে যানবাহন রয়েছে। তবে সবাইকে নিয়ম অনুযায়ী সিরিয়াল করে ফেরিতে ওঠানো হচ্ছে। যাত্রী ও যানবাহনের চাপ থাকায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

আরাফাত রায়হান সাকিব/এফএ/জিকেএস