সরকার অসহায় দরিদ্র ও ভূমিহীন মানুষদের বসবাসের জন্য প্রায় ৩০ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করেছে গুচ্ছগ্রাম। সেই গ্রামে থাকার কথা ছিল আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা। কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জের রানিহাটি গুচ্ছগ্রামটিতে তেমন কিছু নেই। টিনের আধা পাকা একটি ঘর, অস্থায়ী একটি টয়লেট ও হাজার খানেক মানুষের জন্য মাত্র ৯টি টিউবওয়েল বসিয়ে ২০১৮ সালে উদ্বোধন করা হয় গুচ্ছগ্রামটি।
প্রথম দফায় ৯০টি পরিবার সেখানে বাড়ি বরাদ্দ পায়। এরপর আরও ৪০টি পরিবারকে দেয়া হয় ঘর। সব মিলিয়ে সেখানে এখন বসবাস করছে ১৩০টি পরিবার। পরিবারগুলা সেখানে ওঠার পর থেকেই নানান সমস্যায় ভুগছেন।
গিয়াস উদ্দীন নামে ষাটোর্ধ্ব এক বাসিন্দা জানান, পরিবার নিয়ে তার সারাজীবন কেটেছে রাধাকান্তপুর এলাকায়। কিন্তু বার বার নদী ভাঙনে জমি জায়গা হারিয়ে এখন সহায়-সম্বলহীন। রানিহাটি এলাকায় অন্যের এক টুকরো জমিতে কোনো রকমে মাথা গোজার ঠাঁই নিয়েছিলেন। পরে সরকারিভাবে গুচ্ছগ্রামে একটি ঘর দেয়া হয়।
তিনি বলেন, যে ঘরটি তাকে দেয়া হয়েছে সে যায়গাটি কোনো ক্রমেই বসবাসের উপযোগী নয়। মাথার ওপর টিনের ছাউনি। রোদে যেন ঘর থেকে আগুন বের হতে থাকে। বৃষ্টির দিনে বাড়ির ভেতর হাঁটু সমান পানি জমে কাদায় ভরে যায়। ক্ষোভে ইচ্ছা হয় সরকারি ঘর ছেড়ে বাইরে কোথাও গাছতলায় থাকলেও শান্তি পেতাম।
ভিক্ষু আলী নামে অপর এক বাসিন্দা জানান, তিনি আগে নয়ালাভাঙার শিরাটোলা এলাকায় বসবাস করতেন। গুচ্ছগ্রাম হওয়ার পরে তাকেও একটি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। এরপর পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। প্রথমে তিনি কোনো সমস্যা বুঝতে না পারলেও দিন যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অসহায় হয়ে পড়েন।
তার দাবি, আগের বাড়িতেই ভালো ছিলাম। এখানে পানি সঙ্কট, বিদ্যুৎ সঙ্কট ও মাদক বেচা-কেনা হয়। এনিয়ে থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই।
আদরি বেগম নামে এক নারী জানান, গুচ্ছগ্রামে যে টিউবওয়েল আছে সেগুলোতে আর্সেনিক আছে। ওই পানি দিয়ে রান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া কিছুই করা যায় না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হয়ে পানি আনতে হয়।
পাঁচ বছরের শিশু জুবাইদ জানায়, আমরা অনেক ভয়ে ভয়ে রাস্তা পার হয়ে স্কুলে যাই। যদি গুচ্ছগ্রামের ঘরটি চালু করে পড়ালেখার ব্যবস্থা করা হত তাহলে আরও ভালো পড়ালেখা হত।
একই কথা জানান অন্যান্য বাসিন্দারাও। তাদের দাবি, গুচ্ছগ্রামে বসবাসের মতো কোনো অবস্থা নেয়। এখানে দ্রুত বিশুদ্ধ খাবার পানিসহ বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হোক।
নয়ালাভাঙা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, পানি এবং বিদ্যুতের বিষয়টি একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের মুঠোফোনে কল দেয়া হলে তিনি ফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এফএ/জেআইএম