ভারত-বাংলাদেশে আটকা পড়া দুই দেশের যাত্রীরা স্ব-স্ব দেশের হাইকমিশনের বিশেষ অনুমতিপত্র নিয়ে যার যার দেশে ফিরতে পারছেন।
গত সোমবার (২৬ এপ্রিল) থেকে বুধবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত ভারতে আটকে পড়া ৪৩৯ বাংলাদেশি ও ৬৭ ভারতীয় নিজ দেশে ফিরেছেন। শুধুমাত্র বুধবারই দেশে এসেছেন ২৪৯ জন বাংলাদেশি এদের প্রত্যেককে নিজ খরচে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টানে থাকতে হবে।
এদিকে বুধবার যে সব যাত্রী দেশে ফেরত এসেছেন তাদের মধ্যে মেডিকেল পরীক্ষায় তিনজন করোনা পজিটিভ ধরা পড়ছে। তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় যশোর সদর হাসপাতালের করোনা রেড জোনে স্থানান্তর করা হয়েছে। জানা গেছে, বিশেষ অনুমতিপত্র নিয়ে যারা ভারত থেকে দেশে ফিরে আসছেন তাদের বন্দর এলাকার পোর্ট ভিউ, রজনীগন্ধা, জুয়েল হোটেল, সিটি আবাসিক, চৌধুরী হোটেল, হোটেল এ্যারুষ্টেকেট, সান সিটিসহ আরও বেশ কয়েকটি হোটেল।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার আশরাফুজ্জামান বলেন, ভারত ফেরত বাংলাদেশিরা বেনাপোল বন্দর এলাকার সাতটি আবাসিক হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন। সেখানে সব খরচ যাত্রীদের বহন করতে হবে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন (ওসি) আহসান হাবিব বলেন, বাংলাদেশি উপ-হাইকমিশনারের ছাড়পত্র থাকায় আটকে পড়া যাত্রীদের ৪৩৯ জন ভারত থেকে ফিরেছেন।
শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসনা শারমিন মিথি ফেরত আসা যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইনে সার্বিক কাজের দেখভালের তত্ত্বাবধান করছেন।
ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট এক্সপোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, ভারতের ভেরিয়ান্ট অত্যন্ত ভয়ানক। এমনিতেই ভারত থেকে অতি জরুরি অক্সিজেন আমদানি বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কোনোভাবে একবার এ ভাইরাস দেশে ছড়িয়ে পড়লে মহামারি ধারণ করবে। রক্ষা পেতে সরকারি নির্দেশনার সবার মানা দরকার।
বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, বন্দরে বাণিজ্যের সাথে জড়িতরা সবাই যাতে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন, সেটি আবারও সচেতন করা হবে। এছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক মামুন কবির তরফদার বলেন, ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভারদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে আনসার ও সিকিউরিটি ফোর্সের নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। যাতে করে ট্রাক ড্রাইভাররা বন্দরের বাইরে যেতে না পারে সেজন্য সবসময় তৎপর আছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান বলেন, ভারত থেকে পণ্যবাহী গাড়ি প্রবেশের মুখে রফতানি গেটে ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকটিকে বেনাপোল কাস্টমস হাউস ও স্থলবন্দর যৌথভাবে স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। তারপর ট্রাক চালকের হ্যান্ড স্যানিটাইজ, মাস্ক ও পিপিই নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মো. জামাল হোসেন/আরএইচ/জিকেএস