স্বাস্থ্য

বিএসএমএমইউয়ের রেসিডেন্সির শিক্ষার্থীদের সম্মানি ৩০ হাজার করা হবে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে চান্স পাওয়া সব বেসরকারি শিক্ষার্থীদের মাসিক সম্মানি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হবে।’

Advertisement

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স এবং কর্মচারীদের বাসস্থানের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীদেরও আবাসনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ভবিষ্যতে পূর্বাচলে বা কেরানীগঞ্জে জমি বরাদ্দ নিয়ে আবাসন সমস্যার সমাধান করা হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪তম প্রতিষঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ভার্চুয়ালি আয়োজিত এ সভায় যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আর উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় স্টাফদের জন্য অতি দ্রুত হেলথ কার্ড চালু করা হবে। মাস্টারপ্ল্যান করে ব্লক ‘এ’, বেতার ভবন এবং কর্মচারীদের আবাসিক ভবন সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করা হবে। ইন্টারলিঙ্কের মাধ্যমে সকল ভবনের সঙ্গে সংযোগস্থাপন এবং টিএসসি পুনরায় চালু করা হবে।

Advertisement

এর আগে লিখিত বক্তব্যে উপাচার্য জানান, ১৯৬৫ সালে ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ (আইপিজিএমআর) প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরোধীতা স্বত্ত্বেও তিনজন বিশেষজ্ঞ স্যার জেমস ডি এস কেমেরুন, অধ্যাপক নূরুল ইসলাম ও অধ্যাপক এ কে এস আহমেদকে নিয়ে এই ইনস্টিটিউট গড়ে উঠে। কিন্তু ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর সবকিছু থেমে যায়। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়।

তিনি আরও জানান, ১৯৯৭ সালে ৩১ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আইপিজিএম অ্যান্ড আর-কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করতেই ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।

অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমদে বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশে মেডিক্যাল উচ্চশিক্ষার বিকাশ, স্বাস্থ্যখাতে গবেষণার প্রসার এবং বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আজ দেশের চিকিৎসা জগতে সেন্টার অব এক্সিলেন্সে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য প্রধানমন্ত্রী বারডেম সংলগ্ন বেতার ভবনের জমি ও হাসপাতালের উত্তরপার্শ্বের ১২ বিঘা জমির স্থায়ী বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ৫২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ সহায়তা ও দিক-নিদের্শনায় খুব দ্রুত নতুন কেবিন ব্লক সম্প্রসারণ, অনকোলজি ভবন, নতুন বহিঃবিভাগ, আধুনিক আইসিইউ, ওটি কমপ্লেক্স, মেডিক্যাল কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ সম্ভব হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এবং কোরিয়া সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার ৭০০ শয্যাবিশিষ্ট কোরিয়া-মৈত্রী বিশেষায়িত হাসপাতাল (সুপার স্পেশালাইজড) স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালের নির্মাণ কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। চেষ্টা করা হচ্ছে স্বাধীনতার ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর হাসপাতালটি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে শুভ উদ্বোধন করার। এই হাসপাতালটি অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর আরও একটি বড় সাফল্য।

Advertisement

তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরােলজি ও নেফ্রোলজি বিভাগের উদ্যোগে ৬০০টিরও বেশি কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। হৃদরোগ বিভাগে ক্যাথল্যাবে ৩০ হাজারের বেশি কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে করানোরি এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি, পেসমেকার প্রতিস্থাপনসহ জটিল সব ধরণের প্রসিডিউর রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬টি বিভাগেই রয়েছে এমন শত শত সাফল্য।

উপাচার্য জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় শিশুসহ ৫০০ জন শ্রবণ প্রতিবন্ধীর সফল কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়েছে। শিশু হৃদরোগীদের জন্য চালু রয়েছে বিনা অপারেশনে ও অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। কেবিন ব্লকে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের আইসিইউ ও এইচডিইউ ইউনিট। এই ব্লকে রয়েছে অত্যাধুনিক গুটি কমপ্লেক্স। ‘সি’ ব্লকের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে নবজাতকদের চিকিৎসাসেবার জন্য আন্তর্জাতিক মানের এনআইসিইউ ইউনিট। রেঞ্জিওথেরাপির মাধ্যমে ক্যান্সার চিকিৎসাসেবার সর্বাধুনিক লিনিয়ার এক্সিলেরেটর মেশিন চালু রয়েছে। এটা হলো মুজিববর্ষে ক্যান্সার রোগীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার।

‘প্রায় ২০০০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে করোনার আগে বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৮ হাজার রোগী সেবা নিয়েছেন। বৈকালিক স্পেশালাইজড আউটডোরে প্রতিদিন এক হাজার রোগী সেবা নিয়েছেন। বছরে ২০ লাখের বেশি রোগী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। প্রতি বছর ৪০ হাজারেরও বেশি রোগী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। প্রতি বছর মেজর ও মাইনর অপারেশনসহ প্রায় ৫০ হাজার রোগীর অস্ত্রোপচার করা হয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান জনবল সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার। বর্তমানে অটোমেশন কার্যক্রম চলমান। এমডি, এমএস, এমপি এইচ, এমফিল, ডিপ্লোমাসহ ৯৮টি পোস্ট গ্রাজুয়েট বিষয় চালু আছে। এর মধ্যে ৬৩টি হলো রেডিডেন্সী কোর্স। অধিভুক্ত মেডিক্যাল কলেজ ও ইন্সটিউটের সংখ্যা ৪৪টি। অনুষদের সংখ্যা ৭টি’ বলেন জানান উপাচার্য।

অধ্যাপক শারফুদ্দিন আরও বলেন, বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগি অর্জনের লক্ষ্যে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগে পাচ্ছেন। প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত থাকছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। দেশের শিক্ষার্থী ছাড়াও নেপাল, ভারত, সোমালিয়া, ইরান, কানাডা, মালদ্বীপ, অস্ট্রেলিয়া, ভূটানসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এখানে অধ্যয়ন করছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। প্রতি বছর কমপক্ষে ৪০০ শিক্ষক, শিক্ষার্থীকে গবেষণা মঞ্জুরি দেয়া হয়।

এমইউ/এএএইচ/এএসএম